কুমিল্লার দেবিদ্বারে তরুণীর বাড়ি থেকে মুহিন নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে। ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের ৪ দিন পর ফেসবুকে প্রেমিক-প্রেমিকার ছবি ভাইরাল নিয়ে চলছে উত্তেজনা।

গত শনিবার রাতে উপজেলার রাজামেহার ইউপিতে প্রেমিকার বাড়ি থেকে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত মুহিন (১৮) ওই ইউনিয়নের চুলাশ গ্রামের সৌদি প্রবাসী আবুল হাশেমের ছেলে। প্রেমিকা (১৪) একই এলাকার বাসিন্দা।

এদিকে ঘটনার চার দিন পর প্রেমিকার বাবা ও ভাইয়েরা মিলে মুহিনকে হত্যা করেছে বলে দাবি করছে নিহতের পরিবার। এ নিয়ে নিহতের মা সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নিহতের পরিবার এবং এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন যাবত চলছিল মুহিন এবং ওই তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক। গত শনিবার তরুণীর বাড়ি থেকে মুহিনের লাশ উদ্ধার করেন তার স্বজনরা। এতে মুহিন আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করে তরুণীর পরিবারের লোকজন। এ সময় স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নিহত মুহিনের স্বজনদের ভয়ভীতি দেখিয়ে লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করতে বাধ্য করেন।

চার দিন পর মুহিনের ফোন থেকে মুহিন এবং ওই তরুণীর একান্ত মুহূর্তের কিছু ছবি ও বিভিন্ন সময়ের মেসেজের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে মুহিন ও ওই তরুণীর প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

মুহিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মুহিনের মা সুরাইয়া বেগম মুহিনের এসএসসি পাসের সার্টিফিকেট ও কিছু ছবি নিয়ে আহাজারি করছেন। পাশেই হাউমাউ করে কাঁদছেন বড় বোন আয়েশা আক্তার।

তারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বারবার বলেছেন, আমাদের মুহিন আত্মহত্যা করেনি। তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা এ হত্যার বিচার চাই।

নিহত মুহিনের বন্ধু মিনহাজ জানান, গত ৫-৬ মাস আগে ওই তরুণীর ভাইয়েরা ইভটিজিংয়ের অভিযোগ এনে মুহিনকে বেদম মারধর করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে মুহিনকে ছাড়িয়ে আনেন তার মা। এরপর থেকে ওই তরুণীর ভাইয়েরা তাকে বিভিন্ন সময়ে মারধরের হুমকি দিতেন।

নিহতের পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে জানা গেছে, গত শনিবার রাতে মহিন ও মেয়েটি দুজনই পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। এজন্য তারা মেয়েটির বাড়ির আঙিনায় মিলিত হয়। পরে রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে মেয়েটির বড় ভাই মুহিনের খালাতো ভাই আবু তাহেরের কাছে ফোন করে বলেন, তোমার ভাই বিষ খেয়েছে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাও। পরে সেখানে গিয়ে মুহিনের লাশ পাওয়া যায়।

মুহিনের লাশ কাফনকারী মাওলানা আবদুল জলিল জানান, মুহিনের অণ্ডকোষ লাল ও ফুলা ছিল। তার মুখ থেকে বিষের গন্ধ বা মুখ থেকে লালা বের হয়নি।

মুহিনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করে ওই তরুণী জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ছবিগুলো পাওয়া গেছে ছবিগুলো তার ও মুহিনের। মুহিন তাকে বাড়ি থেকে পালানোর জন্য বিভিন্ন সময়ে চাপ দিত। তার সঙ্গে না পালালে সে আমার বাড়িতে এসে আত্মহত্যা করবে বলে একাধিকবার বলেছে।

মেয়েটির বাবা বলেন, তাদের সম্পর্কের কথা আমার জানা নেই। তবে মুহিন আমাদের বাড়িতে এসে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ওসি মো. জহিরুল আনোয়ার বলেন, এ ঘটনার ব্যাপারে নিহতের পরিবার থেকে আমি কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্রঃ যুগান্তর

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: