কুল বা বরই, আপেলের মতো দেখতে তাই নাম তার আপেলকুল, আর কাশ্মীরে এর উৎপত্তি বলে এর নাম কাশ্মীরি আপেল কুল। মাংসাশী আর সুস্বাদু আপেল কুলের চাহিদা বাজারে ব্যাপক। ২০১৮ সাল থেকে গোমতী নদীর চরের ঝাকুনিপাড়া এলাকায় কৃষক আবুল কাশেম চাষ করছেন আপেলকুলের। প্রথমে অল্প কিছু গাছ নিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে ৮০ শতাংশ জমিতে চাষ করেছেন কাশ্মীরি আপেল কুলের। এবছর কাশ্মীরি আপেল কুলের পাশাপাশি আবাদ করছেন বল সুন্দরী ও সিদলেস জাতের কুলের। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ব্যবসার আশা কৃষক কাশেমের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ঝাকুনি পাড়া এলাকায় গোমতী নদীর চরে কাশ্মীরি আপেল কুলের গাছের পরিচর্যায় ব্যাস্ত সময় পার করছেন কৃষক আবুল কাশেমের ছেলে শাহজাহান ও তার সঙ্গীরা।প্রতিদিন ৪ জন শ্রমিক কাজ করেন নিয়মিত। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর ফলন হয়েছে যেকোনো বছরের তুলনায় অনেক ভালো।প্রতিটি ঢালে ঢালে দেখা যায় শুধু বড়ই আর বড়ইয়ের। তাই বড়ইকে বাদুরের হাত থেকে রক্ষার জন্য গাছের উপর ফেলা হয়েছে জাল।আর কিছুদিন পরই ফল বাজারজাত করতে পারবে। এবছরের ধারণা ১৫০ মন কুল বাজারজাত করতে পারবে, যা থেকে প্রায় ৯ লক্ষাধিক টাকা আয় করা সম্ভব।

এ বিষয়ে কৃষক আবুল কাশেম এর ছেলে শাহজাহান বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন হয়েছে, সব খরচ বাদ দিয়ে ভালো ব্যবসা হবে। তিনি আরো জানান, অনেক পাইকার যোগাযোগ করছেন কিনে নেবার জন্য, কিন্তু উৎসুক জনতার যে ভীড়, তাই চিন্তা করছি সাধারন মানুষের কাছেই বিক্রি করব।এতে করে দামও ভালো পাবো, উৎসুক জনতাও অরজিনাল বড়ুইয়ের স্বাধ পাবে। কৃষক আবুল কাশেম বলেন, ফেব্রুয়ারীর প্রথম সপ্তাহ থেকে বাজারজাত করব। জেলা প্রশাসক স্যারকে দিয়ে বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে চাই।স্যার যদি আমার ক্ষেতে আসে তাহলে আমি ধন্য হব। এ বছরের ফলন অন্য যে কোন বছরের তুলনায় ভালো হয়েছে, এজন্য মহান সৃষ্টি কর্তার কাছে কৃতজ্ঞ।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: