কুমিল্লায় নির্বাচনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ইউএনওর কর্তৃক জাকির হোসেন নামে এক সাংবাদিক নেতা লাঞ্চিত হয়েছেন। বুধবার দুপুরে জেলার লালমাই উপজেলার দক্ষিণ ভুলইন ইউপির ছোটতুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। ওই ভোট কেন্দ্রে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় হোমনা উপজেলার ইউএনও রুমন দে অনৈতিকভাবে দেশ রূপান্তর পত্রিকার কুমিল্লা প্রতিনিধি এবং কুমিল্লা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন জাকিরকে শারিরিক ভাবে লাঞ্চিত করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে জেলায় কর্মরত সকল সাংবাদিকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন জাকির পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য দুপুর ১২ টার দিকে ওই ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে বেড়িয়ে যাওয়ার সময় ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালনকারী হোমনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমন দে তাকে ডেকে নিয়ে পরিচয় জানতে চান। এ সময় সাংবাদিক জাকির নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত পর্যবেক্ষন কার্ড এবং পত্রিকার আইডি কার্ড প্রদর্শন করলেও ইউএনও রুমন দে তাকে গালিগালাজসহ শারিকরিকভাবে লাঞ্চিত করেন এবং তার সাথে থাকা আইন শৃঙ্খলার বাহিনীর সদস্যদেরকে লেলিয়ে দেন। এ ঘটনার সময় সেখানে র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন জাকির বলেন, ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করায় কোন প্রকার কথা বার্তা ছাড়াই তিনি আমাকে গালমন্দ শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে আমিসহ স্থানীয় ভোটারগণও হতবাক হন। এ সময় আমাকে শারিরিকভাবে লাঞ্চিত করার জন্য ইউএনও রুমন দে তার সাথে থাকা বিজিবি সদস্যদেরকেও লেলিয়ে দেন। আমি এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইউএনও বিচার দাবি করছি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও রুমন দে বলেন, আমার সাথে কোন সাংবাদিকের এরকম ঘটনা ঘটেনি। আমি এ নিয়ে কোন কথা বলতে চাই না।

কুমিল্লা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ওমর ফারুকী তাপস বলেন, একজন ইউএনও কিভাবে একজন সাংবাদিককে গালিগালাজ এবং শাররীক ভাবে লাঞ্চিত করে তা বোধগম্য নয়। ইউএনও রুমন দে’র এমন অনৈতিক আচরণে স্থানীয় ভোটার সহ সচেতন মহল চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছে। একজন সাংবাদিক নেতার সাথে যদি এমন আচরণ করেন প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা তাহলে সাধারণ জনগনের সাথে তার আচরণ কেমন তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি যথাযথ পূর্বক তদন্ত করে এ ধরনের হীনমন্য কর্মকর্তাদেরকে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার জন্য জেলা প্রশাসনের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

কুমিল্লা প্রেসক্লাবের আহবায়ক নিতীশ সাহা বলেন, দেলোয়ার হোসেন জাকির একজন সিনিয়র সাংবাদিক, প্রশাসনের লোকজন তাকে ভালোভাবেই চিনে, তাঁর সাথে এমন ঔধ্যত্যপূর্ণ আচরণ কোনভাবে মেনে নেওয়া যায়না। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, কি কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে আমরা তা খতিয়ে দেখবো এবং ইউএনও রুমন দে কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করবো।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: