ছবিঃ প্রতীকী

কুমিল্লায় মামাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে ফুফাতো বোনকে ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে থানায়। সেই প্রেক্ষিতে মুরাদনগর থানা পুলিশ মামাতো ভাই শাহিনকে গ্রেফতার করেন। ৫ ঘণ্টা পর উভয়ের উপস্থিতিতে থানায় বসে ধর্ষণের বিচার শুরু হয়। দুই পক্ষের কথা শুনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদেকুর রহমানের উপস্থিতিতে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মামাতো ভাই শাহিনকে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ওই টাকা থেকে অভিযোগকারী মামাতো বোনকে ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। আর পুলিশের খরচ বাবদ বাকি ৬০ হাজার টাকা থানায় রেখে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মুরাদনগর থানায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শাহিন (২৫) বাহরাইন প্রবাসী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রবাস থাকার সময় শাহিনের সঙ্গে পরিবারের সম্মতিতে তার মামাতো বোনের বিয়ের কথাবার্তা হয়। গত ১৭ আগস্ট শাহিন দেশে আসার পর তার মামাতো বোনকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করেন। এক পর্যায়ে তাদের দু’জনের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু গত মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শাহিন অন্যত্র বিয়ে করেন। পরে শনিবার সকালে মুরাদনগর থানায় শাহিন তার বাবা-মা ও বোনসহ চার জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় ওইদিন দুপুরেই অভিযুক্ত শাহিনকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহিনের বোন শাহিনা আক্তার বলেন, ‘আমার ভাই বিয়ে করেছে মাত্র চারদিন। তার টাকা পয়সা দেখে তাকে বিপদে ফেলার জন্য গ্রামের কিছু খারাপ লোকের কুপরামর্শে থানায় গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমাদের থানায় ডেকে এক লাখ ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়। বড় স্যার বললেন, ওই টাকা থেকে ৮০ হাজার টাকা আমার ফুফাতো বোনকে দেয়া হবে, বাকি ৬০ হাজার টাকা থানার খরচ বাবদ রাখা হয়েছে।’

সালিশ বৈঠকের কথা স্বীকার করে মুরাদনগর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নূর-আজম বলেন, ‘দুপক্ষের অনুমতিতে থানাতেই সালিশ করেছি। আর সালিশে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়, সেই টাকাই ছেলের পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।’

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাদেকুর রহমান বলেন, ‘মামাতো ভাই বিয়ে না করায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন ফুফাতো বোন। মেয়েটির বিবাহ বাবদ কিছু টাকা দিয়ে দেওয়া হয়। থানায় খরচ বাবদ কোন-টাকা পয়সা রাখা হয়নি। তার পরও বিষয়টা খবর নিয়ে দেখছি।’

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ফারুক আহমেদ জানান, থানায় টাকা নেওয়ার কথা না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্রঃ জাগোনিউজ

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: