কুমিল্লার চান্দিনায় বিয়ের এক মাসের মাথায় প্রেমিকের সঙ্গে পালানোর অপরাধে ফারজানা আক্তার নামে এক স্কুলছাত্রীকে নির্মম নির্যাতন করে হত্যা করেছে দুই মামা।

গত শুক্রবার (৭ মে) ওই উপজেলার বরকইট গ্রামের হাতগন্ডিপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটলেও প্রকাশ্যে এসে প্রায় দুই সপ্তাহ পর। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।

নিহত ফারজানা আক্তার একই গ্রামের আলী হোসেনের মেয়ে। বাবার মৃত্যুর পর বাবার বাড়িতে থেকেই পড়াশোনা করত সে।

জানা গেছে, বরকইট উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুবাদে ওই এলাকার শাকিল নামে এক ছেলের সঙ্গে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে ফারজানার। ওই সর্ম্পকের কথা জানতে পেরে গত ৯ এপ্রিল তাকে অন্যত্র বিয়ে দেয় দুই মামা আবু হানিফ ও হাবিব উল্লাহ। বিয়ের এক মাস না যেতেই ৫ মে স্বামীর বাড়ি থেকে প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যায় ফারজানা। বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি তার বড়বোন মৌসুমী ও দুই মামা। পরদিন (৬ মে) তাকে শাকিলের বাড়ি থেকে নিয়ে আসে তারা। এরপর শাসনের নামে রাতভর চলে অমানবিক নির্যাতন। দুই মামার বেধড়ক মারধরে এক পর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে ফারজানা। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শুক্রবার (৭ মে) দুপুরে তড়িঘড়ি করে গোপনে দাফন করা হয় তাকে।

স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, ফারজানার মৃত্যুর পর তার মুখে ও শরীরে বিষ ঢেলে আত্মহত্যার প্রচারণা চালায় দুই মামা হানিফ ও হাবিব। এরপর তারা গ্রামের গণ্যমান্যদের দ্বারস্থ হয়। পরে ময়নাতদন্ত এড়াতে ফারজানা স্ট্রোক করে মারা গেছে বলে প্রচারণা চালায়।

ফারজানা আক্তারের লাশের গোসল করিয়েছেন স্থানীয় হাকমতের নেছা ও জেসমিন নামে দুই নারী। তারাই নিশ্চিত করেন যে- নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা ও নীলা দাগ ছিল।

বরকইট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আবুল হাসেম বলেন, স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর ও বাড়ির লোকজন এসে আমাকে জানিয়েছে মেয়েটি বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। আমি তাদের থানার শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেই। কিছুক্ষণ পর শুনি মেয়েটি স্টোক করে মারা গেছে। ২-৩ দিন পর শুনি আবার অন্য কথা।

চান্দিনা থানার ওসি মো. শামসুদ্দীন ইলিয়াছ বলেন, ঘটনাটি আমাদের জানা ছিল না। স্থানীয়রা বা নিহতের পরিবারের কেউ থানায় আসেনি। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্রঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: