কুমিল্লার হোমনায় বোনকে উত্ত্যক্ত করায় ফয়সাল নামে এক যুবককে খুন করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় জিডি এবং পরে মামলার সূত্র ধরে তদন্তের পর ঘাতক শামীমকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘাতকের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জেলার হোমনা উপজেলার সাফলেজি গ্রামের আমিরুল ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলা থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ফয়সাল হোমনা উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনগর গ্রামের ফয়সাল (২২) একই গ্রামের ফুল মিয়ার কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রেম নিবেদনসহ উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। ফয়সাল ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। এ কারণে ওই পরিবার তাকে মেনে নেয়নি। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মাঝে বেশকিছুদিন যাবৎ মতবিরোধ চলে আসছিল।

এদিকে গত ৫ জুন ফয়সাল নিখোঁজ হওয়ার পর বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান মেলেনি। এ বিষয়ে গত ৭ জুন হোমনা থানায় নিখোঁজের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে ১৩ জুন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এরপর পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামের নির্দেশে হোমনা থানার পাশাপাশি মামলাটি ছায়া তদন্তে নামে ডিবির এলআইসি টিম। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানী ঢাকার চকবাজার এলাকা থেকে ঘাতক শামীমকে গ্রেফতারের পরই বেরিয়ে আসে যুবককে হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য।

অভিযানে অংশ নেয়া জেলা ডিবির পরিদর্শক ইকতিয়ার উদ্দিন বলেন, ‘পুলিশ সুপারের নির্দেশে মামলাটির তদারকির দায়িত্ব পাওয়ার পর আমরা খোঁজ নিয়ে ওই যুবকের সঙ্গে একই গ্রামের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারি। এ হত্যার ঘটনার পর থেকে আত্মগোপানে ছিল মেয়ের ভাই শামীম। বিষয়টি সন্দেহ হওয়ায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার চকবাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, শামীমের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমিরুল ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলা থেকে সন্ধ্যায় মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার অভিযান শেষে হোমনা-মেঘনা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ফজলুল করিম জানান, গত ৫ জুন ফয়সালকে কৌশলে নির্মাণাধীন ওই ভবনে নিয়ে যান শামীম। একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে মাটি চাপা দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান শামীম। আর এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক শামীম জানান, ফয়সাল প্রায় সময় তার বোনকে উত্ত্যক্ত করত। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: