মারুফ আহমেদঃ দেশের প্রধান জাতীয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাস সংলগ্ন আমতলী এলাকায় বুধবার দুপুওে মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ ট্রাক্টও ও ব্যাটারী চালিত রিক্সার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এসময় উভয় যানবাহনের চালকসহ রিক্সার দু’আরোহী গুরুতর আহত হয়। খবর পেয়ে দ্রুত হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বাহন দু’টিকে সরিয়ে নেয়।

স্থানীয় বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়,জাতীয় প্রধান ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ময়নামতি সেনানিবাস সংলগ্ন কুমিল্লা সদও উপজেলার দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের আমতলী এলাকায় ফোরলেনের কুমিল্লাগামী অংশে বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টায় কুমিল্লাগামী একটি মাটি পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্রাক্টরের সাথে ময়নামতি সেনানিবাসগামী একটি ব্যাটারীচালিত রিক্সা উল্টোপথে আসার সময় মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রাক্টরের চালক,রিক্সার চালক ও দু’আরোহী গুরুতর আহত হয়। খবর পেয়ে ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে দুর্ঘটনাকবলিত বাহন দুটি উদ্ধার কওে থানায় নিয়ে আসে। স্থানীয়রা আহতদেও উদ্ধার কওে নিয়ে যায় ময়নামতি সেনানিবাস এলাকায় ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালে। আহতদেও মধ্যে ট্রাক্টও চালক বুড়িচংয়ের ময়নামতি ইউনিয়নের মিরপুর গ্রামের রেনু মিয়ার পুত্র রুবেল মিয়া (২৫) ও রিক্সা চালক একই উপজেলার ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নের সৌন্দ্রম বাদশা মিয়ার বাড়ির শহিদুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ আলী (২৬)’র নাম জানা গেলেও যাত্রী দু’জনের পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বশীল সুত্র জানায়,মহাসড়কে ৩ চাকার বাহন রিক্সা ও জমি চাষের ট্রাক্টও চলাচল নিষিদ্ধ। তবে এই আদেশ দেশের প্রধান ও ব্যবস্ততম জাতীয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে মানা হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শত শত মাটি বোঝাই ট্রাক্টও অবাধে চলছে । একই অবস্থা ব্যাটারী চালিত ৩ চাকার বাহন রিক্সার। সুত্র জানায়,মহাসড়কের কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাস থেকে আলেখারচর পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার দুরত্বে ইউটার্ণ হওয়ায় আমতলী এলাকায় গোমতী নদী থেকে মাটি পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্রাক্টরগুলো উল্টোপথে চলছে। রিক্সাগুলোরও একই অবস্থা। ময়নামতি হাইওয়ে থানার সামনে দিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে এসকল বাহন চলাচল করলেও অজ্ঞাত কারণে পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করছে। জাতীয় প্রধান ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের মাইলের পর মাইলজুড়ে ট্রাক্টরে করে ঢাকনাবিহীন অবাধে মাটি বা বালু পরিবহন করায় মহাসড়কের দৃশ্যও বদলে গেছে। মহাসড়কজুড়ে কেবল মাটি আর বালু’র স্তুপ জমে আছে।

দায়িত্বশীল সুত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো জানায়,মহাসড়কে ট্রাক্টও চলাচল নিষিদ্ধ হলেও অজ্ঞাত কারণে সেটা মানছেনা ট্রাক্টও চালকরা। একই অবস্থা হাইওয়ে পুলিশের ক্ষেত্রে। তারাও নিষিদ্ধ এই বাহনটি আটকে কোন ভূমিকা রাখছেনা। এই যখন অবস্থা,তখন বেকাদায় মহাসড়কে চলাচলকারী দ্রুতগতির যানবাহন চালকদের। অল্পগতির নিষিদ্ধ যানবাহনের অদক্ষ চালকরা বেপরোয়া ও উল্টোপথে গাড়ি চালানোর কারণে প্রতিদিনই দুর্ভোগের কবলে পড়ছে দ্রুতগতির যানবাহনের চালকরা। এছাড়াও মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন অসংখ্য গাড়ি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। অদক্ষ চালকদেও পরিচালনায় ওইসব গাড়িতে যাতায়াত করছে অসংখ্য মানুষ। বিআরটিএ’র নিরবতাও এক্ষেত্রে প্রশ্ন হিসেবে দেখা দিয়েছে। দায়িত্বশীল জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে নিষিদ্ধ,ফিটনেসবিহীন যানচলাচল বন্ধে বিআরটিএসহ জেলা প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে। পুলিশ এক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: