কুমিল্লায় স্ত্রীকে পিটিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়ার ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সেই স্বামীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিজ বাড়ি থেকে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে কারাগারে।

গ্রেপ্তার নাজমুল হাসানের বাড়ি লালমাই উপজেলার ভুলইন উত্তর ইউনিয়নের বড় চলুন্ডা গ্রামে।

১৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, নাজমুল টানতে টানতে নিয়ে গিয়ে তার স্ত্রীকে রাস্তায় ফেলে রাখেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, দুই বছর আগে একই উপজেলার বেলঘর উত্তর ইউনিয়নের গৈয়ারভাঙ্গা বাজারে ওষুধের দোকানে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন নাজমুল। সে সময় তার বেলঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পরিবারের লোকজন রাজি না হওয়ায় নাজমুল একসময় তাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। এরপর ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর বিয়ের দাবিতে নাজমুলের বাড়িতে অনশন শুরু করেন মেয়েটি। পরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় তাদের বিয়ে হয়।

আইরিনের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকে নাজমুলসহ তার পরিবারের সদস্যরা মেয়েটিকে তিন লাখ টাকা যৌতুক দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর থেকে তিনি বাবার বাড়িতেই থাকতেন।

৭ এপ্রিল সকালে স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে শ্বশুরবাড়িতে গেলে তারা আবার তাকে মারধর করেন। এরপর নাজমুল তাকে টানতে টানতে নিয়ে গিয়ে রাস্তায় ফেলেন।

ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হলে ২০ এপ্রিল দুপুরে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব তাকে শনাক্ত করেন।

ওসি জানান, ওই দিন থানায় গিয়ে মেয়েটি স্বামী নাজমুল হাসান, শাশুড়ি শামীমা বেগম, শ্বশুর আবুল খায়ের ও ভাশুর নজরুল ইসলামসহ দুই থেকে তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

এরপর মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম নাজমুলকে গ্রেপ্তার করেন।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: