নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কুমিল্লায় তিন সন্তানের জননীর সাথে পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়ায় স্বামীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে মোবারক হোসেন (সবুজ স্যার) (২৭) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এছাড়াও মোবারক পূর্বে একাধিক ব্যক্তির স্ত্রী এবং অবিবাহিত মেয়েদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক ও প্রেমের অভিনয় করে প্রতারণা করার অভিযোগ রয়েছে। মোবারক হোসেন ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার গুড়ি গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে। বর্তমানে সেই কুমিল্লা মহানগরীর দৌলতপুর এলাকায় ভাড়া থাকেন। সেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্র ছিলেন এবং দৌলতপুর প্যাড্রিস কিন্ডার গার্ডেনে চাকুরী করতেন। দীর্ঘদিন যাবত মোবারক দৌলতপুর অবস্থান করে এই প্রতারণা মূলক কর্মকা- করে আসছেন বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

মোবারকের এইসব অবৈধ কর্মকা-ের শিকার হয়ে মোঃ আরজন আলী নামে এক ব্যক্তি কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় একটি অভিযোগ করেছেন তার বিরুদ্ধে। কিন্তু পুলিশ এখন পর্যন্ত ওই প্রতারকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। অব্যাহত রয়েছে তার পরকীয়া, প্রেমের অভিনয় ও প্রতারণা মূলক কর্মকা-।

অভিযোগ সূত্র জানায়, মোঃ আরজন আলী (৫০) ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর জিনোদপুর গ্রামের মৃত আবদুস ছালামের ছেলে। পেশায় একজন সংগীত শিল্পী। পাশা-পাশি একটি ব্যবসা করতেন। ব্যবসায় অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে জীবীকার তাগিদে আরজন আলী চারকরী করতে ঢাকায় চলে যায়। তিন সন্তান এবং স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে যান। কিন্তু কিছু দিন পরে জানতে পরলো তার স্ত্রী কুমিল্লা চলে আসেন এবং কুমিল্লা ইপিজেডে চাকুরী দিয়েছেন তার এক ভাই। বাসা ভাড়া করে থাকেন কুমিল্লা মহানগরীর বলারামপুর। পরে তিনি কয়েক মাস পর কুমিল্লা আসলে এসে স্থানীয়দের কাছে জানতে পারলো তার স্ত্রীর সাথে ওই প্রতারক মোবারকের পরকীয়া ও অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। পরে তিনি এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে প্রতারক মোবারক রাতের অন্ধকারে তাকে হত্যার চেষ্টা করে। পরে তিনি এলাকার মাতুব্বর রমজান আলীসহ স্থানীয় শালিশের কাছে বিষয়টি জানিয়েছেন। অভিযোগ করায় পরবর্তীতে একাধিকবার বখাটেদের দিয়ে মারধর করারও চেষ্টা করে মোবারক। এছাড়া প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছে। পরে আরজন আলী নিজের নিরাপত্তার জন্য কুমিল্লা কোতয়লী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।

মোঃ আরজন আলী জানান, প্রতারক মোবারকের মুঠো ফোনে তার স্ত্রীর সাথে অবৈধ শারীরিক সম্পর্কে ভিডিও ও ছবি রয়েছে। বর্তমানে ওই ভিডিও ও ছবি প্রকাশের কথা বলে আমার স্ত্রীকে ব্ল্যাক মেইল করে এখনও অবৈধ কাজ করছে। আমাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। বর্তমানে আমার স্ত্রীর সাথে এইসব বিষয় নিয়ে আমার দ্বন্দ্ব চলছে। আমি পুলিশ প্রশাসনসহ প্রশাসনের সর্বস্তরে সহযোগিতা চাই।
অভিযুক্ত মোবারক হোসেন জানান, আমি কেন বলবো যিনি অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রীর কাছে আমাদের সম্পর্কের কথা জানতে পারবেন। এই বলে তিনি মুঠো ফোনের কল কেঁটে দিয়েছেন।

মহানগরীর বলারামপুরের শালিশী রমজান আলী জানান, প্রতারক মোবারক হোসেন অসহায় লোকটার স্ত্রীকে দেউলিয়া করেছে। বিভিন্ন সময়ের শারীরিক সম্পর্কের ছবি এবং ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাক মেইল করে রেখেছে। আমরা একাধিকবার চেষ্টা করেছি তাদের এই অবৈধ সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করতে। প্রতারক আমাদের কথা শুনে না। উল্টো ওই মহিলার স্বামীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি-দুমকি দিচ্ছে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: