সদর দক্ষিণ প্রতিনিধিঃ কুমিল্লা মহানগরীর সদর দক্ষিণ অংশের ২২নং ওয়ার্ডের উত্তর রামপুর ছয়বাড়ী গ্রামের অলি উল্লার স্ত্রী মামলাবাজ সেই নাদিয়াকে উদ্ধার করেছে পিবিআই। রবিবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আপেল মাহমুদের নেতৃত্বে মনোহরগঞ্জ থানার বাইশগাও এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া নাদিয়া অপহরণ কিনা এ বিষয় সন্দেহ রয়েছে বলে প্রেস কনফারেন্সে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আপেল মাহমুদ। মামলাবাজ নাদিয়া উদ্ধার হওয়ার খবর পেয়ে উত্তর রামপুর ছয়বাড়ি গ্রামের মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরীর ২২নং ওয়ার্ডের উত্তর রামপুর ছয়বাড়ী গ্রামের অলি উল্লাহর স্ত্রী নাদিয়া আক্তার গত ০৮/০৬/১৭ইং তারিখ তার ঝা রিনা আক্তারের ঘরের সানসেটের ভিতর রান্না ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করলে রিনা আক্তার তাকে বাধা দেয়। নাদিয়া আক্তার রিনার কথায় কর্নপাত না করে তাকে গালমন্দ করে। উপায়ন্তর না দেখে রিনা ০৯/০৬/১৭ইং তারিখ দুপুর ২টায় গ্রামবাসীকে নিয়ে শালিস দরবার ডাকে। অলি উল্লাহর বাড়ীতেই শালিস দরবারে সিদ্ধান্ত হয় যে রিনা আক্তারের সানসেটের ভিতরে নাদিয়া আক্তার যেন রান্না ঘর নির্মাণ না করে। প্রয়োজনে সার্ভেয়ার এনে পরিমাপ করে ঘর তৈরি করা হউক। উক্ত সিদ্ধান্ত নাদিয়া আক্তারের স্বামী অলি উল্লাহ মেনে নিলেও স্ত্রী নাদিয়া আক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে বলতে শুরু করে উক্ত রায় আমি মানি না। প্রয়োজনে গ্রামবাসীকে দেখিয়ে দিব। তারপরই নিজের শিশু সন্তান অনন্ত (৬) কে লুকিয়ে রেখে গ্রামের মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। যাহার নং ২২, সদর দক্ষিণ মডেল থানা, কুমিল্লা। তদন্তে ওই মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় মামলার ১৩ জন আসামীকে অব্যাহতি দিয়ে নাদিয়ার বিরুদ্ধে পুলিশ কর্তৃক ২১১ ধারায় মাননীয় আদালতে প্রসিকিউশন দাখিল করে। ওই মামলায় নাদিয়ার বিরুদ্ধে ২১১ ধারায় অভিযোগ দেওয়ার পর থেকেই সকল আসামীকে পুনরায় হয়রানি করার উদ্দেশ্যে নাদিয়া আক্তার বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় গ্রামের ১৬ জনকে আসামী করে আরো একটি সাধারণ ডায়েরী দায়ের করে। ডায়েরী নং – ৯৬০। উক্ত সাধারণ ডায়েরী সদর দক্ষিণ মডেল থানা তদন্ত করে মিথ্যা বলে মাননীয় আদালতে ১৮/০৯/১৭ইং তারিখে প্রতিবেদন দাখিল করে। তার ছেলে অনন্ত অপহরন মামলাটি তার বিরুদ্ধে যাওয়ায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে নিজেকে বাঁচানোর জন্য আত্নগোপনে থেকে মামলার মোটিভকে অন্য দিকে প্রবাহিত করার জন্য তার মাকে বাদী করে গ্রামের সর্দারসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি অপহরন মামলা দায়ের করে। অসহায় ও নির্দোষ গ্রামবাসী মামলাবাজ নাদিয়ার মিথ্যা মামলা থেকে রক্ষা পেতে ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরও স্বরকলিপি প্রদান করে।মামলাবাজ নাদিয়া উদ্ধার হওয়ার খবর পেয়ে উত্তর রামপুর ছয়বাড়ি গ্রামের মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

তিনি বলেন, মামলায় ২১জনকে আসামী করা হয় যার মধ্যে ১৮জন পুরুষ ও ৩জন নারী রয়েছেন। আলোচিত এই অপহরণ মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তরের পর অধিক গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হয়। শনিবার কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের বাইশগাঁও গ্রামের একটি বাড়ি থেকে নাদিরা আক্তারকে উদ্ধার করা হয়। নাদিরা অসুস্থ থাকায় তাকে পিবিআই পুলিশের হেফাজতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিতসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া তার শরীরে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন থাকায় কুমেক ফরেনসিক বিভাগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

পিবিআই কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আপেল মাহমুদ বলেন, মামলার সত্যতা রহস্যাবৃত। এবং তা অপহরণ কিনা এ বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।  মামলায় ১নং আসামী কুমিল্লা বার্ডে চাকুরী করেন, ২নং আসামী সেনাবাহিনীতে চাকুরী করেন এবং ৩নং আসামী মহিলা যিনি সরকারি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা এছাড়া মামলায় বাকী আসামীরা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং কৃষক। তাছাড়া বাদী যে ঘটনাস্থলের কথা উল্লেখ করেছেন  সেটি একটি লোকারণ্য এলাকা এবং ১৮জন পুরুষ ও ৩জন নারী একত্রিত হয়ে ভিকটিমকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হলে বিষয়টি কারো না কারো চোখে পড়ত। তাছাড়া বাদী যাদেরকে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারাও বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। সার্বিক বাস্তবতায় এজাহারের সাথে বাস্তবতার সামঞ্জস্যতা নেই।

উল্লেখ্য নাদিরা অপহরণ ঘটনার মামলায় পুরো এলাকায় গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: