বশিরুল ইসলামঃ কুমিল্লায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ধর্ষণের ঘটনা। গত দুই মাসে অন্তত ৬১ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। প্রতিদিনই কুমিল্লার কোথাও না কোথাও ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন নারী। এটি এখন আতঙ্কেরও কারণ। ধষর্ণের শিকার নারীদের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরাও এতো বেশি সংখ্যক ধর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, গত ৫৬ দিনে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় হত্যা, ধর্ষণের ঘটনায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে ১৭৫ জনের ময়না তদন্ত ও পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়েছে। এদের মধ্যে ধর্ষণের অভিযোগে ৬১ জনের ডাক্তারি পরীক্ষা ও হত্যা এবং দুর্ঘটনা জনিত কারণে ১১৪ জনের ময়না তদন্ত। চলতি মাসে দেবিদ্বারে হত্যার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ছিল। ২৫ দিনে ১০ জনের ময়নাতদন্ত হয়েছে। গত মাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক ধর্ষণ হয়েছে বরুড়া থানায় ৫ জন।
জানা গেছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ১ থেকে ২৫ তারিখে ধর্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে এমন ১৯ জনকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে পাঠায় পুলিশ। এর মধ্যে চান্দিনা থানা থেকে ভিকটিম পরীক্ষার (ধর্ষণ) জন্য ৩ জনকে, সদর থানা থেকে ২ জনকে, সদর দক্ষিণ থানা থেকে ৩ জনকে, বরুড়া থানা থেকে ২ জনকে, তিতাস থানা থেকে ১ জনকে, নাঙ্গলকোট থানা থেকে ৩ জনকে, দাউদকান্দি থানা থেকে ২ জনকে, মুরাদনগর থানা থেকে ২ জনকে, চৌদ্দগ্রাম থানা থেকে ১ জনকে পাঠানো হয়।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত আগষ্ট মাসে ধর্ষণের (ভিকটিম পরীক্ষা) অভিযোগে হাসপাতালে আসে ৪০ জন। তাদের মধ্যে সদর থানা থেকে ৫ জনকে, চান্দিনা থানা থেকে  ৪ জনকে, সদর দক্ষিণ থানা থেকে ৩ জনকে,  বরুড়া থানা থেকে ৫ জনকে, বুড়িচং থানা থেকে ৪ জনকে, দেবিদ্বার থেকে ৩ জনকে,  তিতাস থানা থেকে ১ জনকে, নাঙ্গলকোট থানা  থেকে ২ জনকে, দাউদকান্দি থানা থেকে ২ জনকে, হোমনা থানা থেকে ২ জনকে, মুরাদনগর থানা থেকে ২জনকে, বাঙ্গরা থানা থেকে ১ জনকে, চৌদ্দগ্রাম থানা থেকে ৪ জনকে, মনোহরগঞ্জ থানা থেকে ২ জনকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
কুমিল্লায় চলতি বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যক ধর্ষনের ঘটনা ছিল জুলাই মাসে ৩৫ জন।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক কামদাপ্রসাদ সাহা জানান, এটি উদ্বেগের বিষয় তো বটেই। আমরা প্রতিদিনই ধর্ষণের অভিযোগে কারো না কারো ডাক্তারি পরীক্ষা করছি। এর মধ্যে কোন দিন ৩টি, কোন দিন ২টি, কোন দিন ১টি আবার কোন দিন থাকেও না। যারা ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আসে তাদের বেশিরভাগের বয়স ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। তিন বছরের শিশু বা  ৫ বছরের শিশুও আছে। ৪০ বা ৫০ বছর বয়সী নারীও আসেন।
তিনি জানান, শুধু ধর্ষণ নয় এ বছর আমরা ৫ শতাধিক মানুষের ময়নাতদন্ত করেছি। যারা হত্যা বা অপমৃত্যু এবং সড়ক দুঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এমন মানুষ রয়েছেন।

সূত্রঃ কুমিল্লার কাগজ

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: