মহিউদ্দিন মোল্লাঃ এখানে মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে আসে। সেখানে দিন দিন দোকানপাট বাড়ছে। দোকানের আধিক্যে হারিয়ে যাচ্ছে ধর্মসাগর পাড়ের নির্জনতা ও সৌন্দর্য। সূত্র জানায়, ত্রিপুরার অধিপতি মহারাজা প্রথম ধর্মমাণিক্য ১৪৫৮ সালে ধর্মসাগর খনন করেন। এ অঞ্চলের মানুষের পানির কষ্ট দূর করার জন্য এটি খনন করা হয়। নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ধর্মসাগরের আয়তন ২৩.১৮ একর।

ধর্মমাণিক্যের নামানুসারে এর নাম রাখা হয় ধর্মসাগর। কুমিল্লার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ধর্মসাগরের প্রায় পৌনে ৬০০ বছরের ইতিহাস। কর্মময় জীবনে হাঁপিয়ে ওঠা মানুষ প্রকৃতির খুব কাছাকাছি থেকে একটু স্বস্তি পেতে রোজই এখানে ছুটে আসেন। স্বাস্থ্য-সচেতন লোকজন সকাল-সন্ধ্যায় ধর্মসাগরের পশ্চিমপাড়ে হেঁটে বেড়ান নির্মল বায়ুর প্রত্যাশায়। এখানে এলে নাগরিক জীবনের যাবতীয় ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। ধর্মসাগরের সেই নির্জনতা হারাতে বসেছে। এখানে একাধিক দোকান বসানো হয়েছে। বেড়েছে হকারের আধিক্য। নগরবাসী তাদের সেই খোলামেলা নিরিবিলি ধর্মসাগর পাড়কে আবার ফিরে পেতে চায়। জাগ্রত জনতার প্রতিবাদী মঞ্চের সংগঠক নিজাম উদ্দিন রাব্বী বলেন, এখানে এত দোকানের কোনো প্রয়োজন ছিল না। আমরা ধর্মসাগর পাড়কে বাণিজ্য কেন্দ্র নয়, নির্জন বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে দেখতে চাই।

ধর্মসাগরের পানি স্বচ্ছ দেখতে চাই, এতে কোনো ময়লা দেখতে চাই না। শিক্ষাবিদ এহতেশাম হায়দার চৌধুরী বলেন, এখানে যে নিরিবিলি পরিবেশ ছিল তা হারিয়ে যাচ্ছে। একটা-দুইটা দোকান করে এখানে বাজার হয়ে যাচ্ছে। আমরা বুকভরা সতেজ নিঃশ্বাস নিতে পারা সেই ধর্মসাগর পাড়কে আবার ফিরে পেতে চাই। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বাজার শাখার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা হারুনুর রশিদ জানান, ধর্মসাগর পাড়ে কোনো দোকান লিজ দেওয়া হয়নি। কিছু মেয়র মহোদয় মৌখিক অনুমোদন দিয়েছেন, কিছু অবৈধভাবে বসেছে। দোকান বেড়ে যাওয়ায় ধর্মসাগর পাড়ের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে স্বীকার করে তিনি বলেন, আমরা এগুলোর তালিকা করছি। শিগগিরই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: