ডেস্ক রিপোর্টঃ কৌশলে ভরাট করা হচ্ছে কুমিল্লা নগরীর পুকুরগুলো। গত বছর নগরীর ১০/১২টি পুকুর ইতোমধ্যে ভরাট করা হয়েছে। কোথাও ময়লা ফেলে, ছোট দোকান ঘর তুলে, বাঁশ রেখে পুকুরগুলো ভরাট করা হচ্ছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নগরীতে সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানার অর্ধশতাধিক পুকুর দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করে কৌশলে ভরাট করছে। বিশেষ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের পাশের পুকুর, আদালতের উত্তর পাশের পুকুর, টিঅ্যান্ডটি অফিসের পাশের পুকুর, রামঘাট পুকুর, মদিনা মসজিদ সড়কের পুকুর, বাগিচাগাঁও ডাকবাংলো পুকুর, ছোটরা জংলী বিবির মসজিদ পুকুর ও ফয়জুন্নেছা স্কুলের পাশের পুকুর ভরাট চলছে।

কাপ্তান বাজার এলাকার বাসিন্দা শামীম ইসলাম জানান, আদালতের উত্তর পাশের পুকুরটি ভরাট হয়ে গেলে আগুন লাগলে এ এলাকায় পানি পাওয়া যাবে না। পুকুরটি রক্ষা করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্রমতে, ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে বলা হয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও জনগণের আশ্রয়স্থল রক্ষা করতে কোনও অবস্থায় খাল, বিল, পুকুর-নালাসহ প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট করা যাবে না। জনস্বার্থে এর ব্যতিক্রম করতে হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি ছাড়া নিজের মালিকানাধীন পুকুরও ভরাট করা যাবে না।

জাগ্রত জনতার মঞ্চের সংগঠক নিজাম উদ্দিন রাব্বী বলেন, ‘একটু বৃষ্টিতে নগরী জলাশয় হয়ে যায়। ধীরে ধীরে সব পুকুর ও দিঘি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের সঙ্গে সচেতন সমাজকেও এ বিষয়ে সোচ্চার হতে হবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লার সভাপতি ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানার অর্ধশতাধিক পুকুর ভরাটের প্রস্তুতি চলছে। পুকুর ভরাটের কারণে নগরীতে জলাবদ্ধতা বাড়ছে। পুকুরগুলো রক্ষার জন্য এগুলো পরিষ্কার করে সংরক্ষণ করতে হবে। এজন্য প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।’

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপম বড়ুয়া বলেন, ‘নগরীতে পুকুর ভরাটের কারণে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে আসবে। জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয় বাড়বে। সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুরগুলো রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

সূত্রঃ বাংলাট্রিবিউন

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: