কুমিল্লা নগরীর প্রবেশমুখে শাসনগাছা ফ্লাইওভারের পশ্চিম প্রান্ত থেকে শুরু করে বাস টার্মিনাল পর্যন্ত অংশে চলতি বর্ষা মৌসুমে নিত্য জলজট লেগেই আছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় গাড়ির চাপে জমে থাকা পানিতে রাস্তা ডেবে খানাখন্দ থেকে বর্তমানে ডোবায় রূপ নিয়েছে। এমন এক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে এক ঘণ্টার বৃষ্টির পানি জমে থাকে কয়েক দিন। এই খানাখন্দে ভরা সড়কে ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন বাস টার্মিনালে প্রবেশ করছে শত শত পরিবহন। ঘটছে দুর্ঘটনাও।

এ ছাড়া আলেখাচর-শাসনগাছা সড়কের দূর্গাপুর কোকাকোলা ফ্যাক্টরির পেছনের অংশ, নোয়াপাড়া উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পশ্চিম পাশে সড়কের কিছু অংশে পানি জমে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এসব দুর্ভোগ লাগবের নেই কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ। অবস্থা বেগতিক হয়ে উঠলে কিছু দিন পর পর সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে ইট-খোয়া ফেলা হলেও তা ভারী পরিবহনের চাপে নিমিষেই কাদা পানিতে মিশে কয়েক ঘণ্টা পরেই আগের রূপে ফিরে যায়। সচেতন মহলের অভিমত, নগরীর অন্যতম প্রবেশ দ্বার আলেখাচর- শাসনগাছা সড়কের দূর্গাপুর কোকাকোলা ফ্যাক্টরির পেছনের কিছু অংশ আর ফ্লাইওভারের উত্তর পাশের ঘেষা টার্মিনালের কয়েক মিটার খান্দাখন্দ সড়ক পরিকল্পিতভাবে সংস্কার না করার কারণে সরকারের শত কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প আজ প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা ই রাব্বী বলেন, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার না থাকার কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ভোগ লাগবে সাময়িকভাবে আমরা খানাখন্দ অংশ মেরামত করে দিচ্ছি। তবে দূর্গাপুর কোকাকোলার পেছনের অংশে নোয়াপাড়া উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন অংশ এবং শাসনগাছা ফ্লাইওভারে অভিমুখ থেকে নিছের অংশ মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিটার আরসিসি দ্বারা সংস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৭ কোটি টাকার প্রকল্প অল্প সময়ে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাবে। আগামী বর্ষার আগেই এই সমস্যা লাঘব হবে ইনশাআল্লাহ।

জানা যায়, কুমিল্লার শাসনগাছা ফ্লাইওভার ছিল নগরবাসীর জন্য এক স্বস্তির নিঃশ্বাস। নগরীর অন্যতম প্রবেশদ্বার শাসনগাছা ফ্লাইওভার নির্মাণের ফলে এই এলাকার চিরচেনা যানজট আর জনদুর্ভোগের চিত্র পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু স্বস্তির এই ফ্লাইওভারের প্রবেশমুখে গণপরিবহনের পার্কিং এবং সিএনজি অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড সৃষ্টি করছে দুঃসহ জনভোগান্তির। তবে গত আগস্ট মাসের শেষ দিকে অস্থায়ী ডিভাইডার দিয়ে বাস টার্মিনালে প্রবেশের পরিবহন ও ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে যাতায়াতকারী পরিবহন আলাদা করে দেওয়াতে যানজট অনেকটা দূর হয়েছে। তবে ভোগান্তি হয়ে উঠেছে বাস টার্মিনালে প্রবেশপথে খানাখন্দ অংশে নিত্য জলজট।

নিউ জনতা পরিবহন এর চালক শাহ আলম বলেন, সারা পথ স্বস্তিতে আসার পর ফ্লাইওভারের পশ্চিম প্রান্ত থেকে বাসস্ট্যান্ডে যেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। দোয়া-দরুদ পড়ে এতটুকু জায়গা পাড়ি দিতে আমরা এখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। আমাদের এই দুর্ভোগ দেখার কি কেউ নেই ?

কুমিল্লা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শাসনগাছার স্থানীয় বাসিন্দা আহমেদ নিয়াজ পাবেল বলেন, শাসনগাছায় ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য; ভোগান্তি সৃষ্টির জন্য নয়। ফ্লাইওভারের প্রবেশমুখে অবৈধভাবে সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড বসানোয় প্রতিদিন নগরবাসীকে দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়তে হচ্ছে। বর্ষায় কর্দমাক্ত খানা-খন্দেভরা প্রবেশপথে যাত্রীরা চমর ভোগান্তি পোহাচ্ছে।

কুমিল্লার বাস মালিক সমিতির মহাসচিব মো. তাজুল ইসলাম বলেন, শাসনগাছা ফ্লাইওভারের নিচে কুমিল্লা, ঢাকাসহ আন্তঃজেলা সকল বাস সার্ভিসের টার্মিনাল ও স্ট্যান্ড। ফ্লাইওভারের পশ্চিম দিকের দু’পাশের প্রবেশপথগুলো খুবই সরু। এ ছাড়া খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে সড়কে। বিশেষ করে বর্ষায় খানাখন্দে জলজট লেগেই আছে। ঝুঁকি নিয়ে চালকরা পরিবহন চালাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি হচ্ছে, বাস টার্মিনালের অভ্যন্তরে গর্ত ভরাট, অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ এবং গর্ত ও খানাখন্দে ভরা সড়ক মেরামত করা হোক। এ ছাড়া প্রশাসনকে বলবো, যানজট নিরসনে সড়কের ওপরে যাতে দাাঁড়িয়ে থেকে যাত্রী ওঠানামা করাতে না পারে, সে জন্য কমিউনিটি পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হোক।’

উল্লেখ্য, শাসনগাছায় যানজট নিরসনে প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৩১.২৯ মিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করা হলেও নিচে রয়ে গেছে ভাঙা সড়ক, ফুটপাত দখল, কাঁদাপানি আর যানজটের সঙ্গে সেই পুরনো নরকযন্ত্রণা। সরেজমিনে শাসনগাছা ফ্লাইওভারের নিচে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাস আটকে আছে ফ্লাইওভারের সরু গলিতে। শাসনগাছা বাস স্ট্যান্ডজুড়ে এলোমেলো দাঁড়িয়ে আছে যাত্রীবাহী বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার। নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশকে চরম বেগ পোহাতে হচ্ছে।

সূত্রঃ সময় টিভি

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: