‘সংবাদ প্রকাশের জেরে’ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দুই সাংবাদিককে হল থেকে বের করা ও দেখে নেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজের বিরুদ্ধে সোমবার ওই দুই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

ইলিয়াস হোসেন সবুজ যে কমিটির সভাপতি তার মেয়াদ চার বছর আগে উত্তীর্ণ হয়ে গেছে।

রোববার রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ বাসার ও সাফায়িত সিফাতকে হুমকি দেওয়া হয় বলে তাদের অভিযোগ।

সাজ্জাদ দৈনিক আজকের পত্রিকা এবং সিফাত আরটিভি অনলাইনের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। প্রকাশিত সংবাদের জের ধরে এমন হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তাদের দাবি।

সাজ্জাদ বাসার ও সাফায়িত সিফাত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদে রয়েছেন।

এই দুই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, রোববার রাতে হুমকি দেওয়ার সময় ওই ছাত্রলীগ নেতা বলেছেন তিনি সব হল থেকে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের নামিয়ে দেবেন। এ সময় তার সাথে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাশার সাকিবকে বঙ্গবন্ধু হল থেকে সংবাদকর্মীদের নামিয়ে দিতে আদেশও দেন তিনি।

সাজ্জাদ বাসারের বাবাকে নিয়েও ইলিয়াস ও মাজেদ বাজে মন্তব্য করেন বলে তাদের অভিযোগ।

সাজ্জাদ বাসার ও সাফায়িত সিফাত বলেন, রোববার রাতে তারা খাবার শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে কথা বলছিলেন। এ সময় তাদের ডেকে নিয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এরপর কথাবার্তার এক পর্যায়ে ইলিয়াস ও মাজেদ তাদের করা সংবাদের প্রসঙ্গ তুলে উত্তেজিত হয়ে যান।

অভিযোগে বলা হয়, “ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, ‘ভেবেছিস তোদের হ্যাডম আছে, তাই যা ইচ্ছে লিখে ফেলছিস। এবার দেখবি আমাদের কী ‘হ্যাডম’।”

এ সময় তিনি প্রেস ক্লাবে যুক্ত থাকা শিক্ষার্থীদের হলে থাকতে দেবেন না বলে ঘোষণা দেন, অভিযোগ দুই সংবাদকর্মীর।

সাজ্জাদ বাসার বলেন, “ইলিয়াস ভাই আমাকে দেখিয়ে তার সাথে থাকা বঙ্গবন্ধু হলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাসার সাকিবকে আদেশ দেন যেন আমি ও অন্যান্য সাংবাদিকদের কালই হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকে আমি অনিরাপদ বোধ করছি। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

সাফায়িত সিফাত বলেন, “আমরা সাংবাদিকতা চর্চা করি। বিভিন্ন বিষয়ে সংবাদ করতে হয়। কিছু বিষয় কারো পক্ষে যাবে, কারো বিপক্ষে। রোববার রাতে ঘটনার সময় ইলিয়াস ভাইকে বলেছিলামও যদি কোনো কিছু ভুল মনে হয় তাহলে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ দেওয়ার জন্য। কিন্তু তিনি যা করলেন তা ন্যক্কারজনক। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।”

হুমকি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, “কোনো হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটে নাই। আমরা দুইজনের সাথে শুধু কিছু বিষয়ে কথা বলেছি।”

হল থেকে বের করে দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় আছে। তারা ছাত্রলীগ নিয়ে লিখবে, আর ছাত্রলীগ কিছু করবে না – এটা হতে পারে না।”

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদ বলেন, “আমরা ছোট ভাইয়ের মতো বিষয়টা নিয়ে কথা বলেছি। সাংগঠনিক জায়গা থেকে কথা বলিনি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, “আমি শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। শিগগিরই প্রক্টরিয়াল বডির সবাই বসে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।”

২০১৭ সালের ২৬ মে ইলিয়াস হোসেন সবুজকে সভাপতি ও রেজাউল ইসলাম মাজেদকে সাধারণ সম্পাদক করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটিকে এক বছরের জন্য অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। পরবর্তীতে একই বছরের ২২ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। চার বছর আগে মেয়াদোত্তীর্ণ এই কমিটি দিয়ে চলছে ছাত্রলীগ।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: