জে.এইচ বাবুঃ কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উদ্বেগজনক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে চুরি-ডাকাতি। সম্প্রতি সময়ে বুড়িচং টু পীরযাত্রাপুর সড়কে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। তাছাড়া ময়নামতি ইউনিয়নের গন্ডুল এলকায় এক সংখ্যালগুর বাড়ীতে চুরি হয়। চুরি-ডাকাতি বন্ধে সোমবার দুপুরে উপজেলার পীরযাত্রাপুর গ্রামবাসী বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও এর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন।

স্মারকলিপিকে গ্রামবাসী উল্লেখ করেন, বুড়িচং হতে আরাগ গ্রাম হয়ে যে রাস্তাটি পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নে পৌঁছেছে, সেটি পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের পথ। বিগত অনেক বছর ধরে সন্ধার পরপরই এই রোডে ডাকাতি হচ্ছে যা বুড়িচং উপজেলার ছেলে-বুড়ো সকলেরই জানা আছে এবং জানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তা দেখে মনে হয় এই রাস্তায় যেন কোনদিন কিছুই হয় নি! প্রশাসন গুরুত্ব দিত তাহলে এত অভিযোগ প্রাপ্তির পরও একজন ডাকাতও কেন তারা ধরতে সক্ষম হয়নি, যার সূত্র ধরে এই ডাকাতি চক্রের মূল উৎপাটন করা সম্ভব হতো!

পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের শত শত লোক বুড়িচং বাজারে ব্যবসা ও চাকরি করে এই উপজেলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে অবদান রেখে চলেছে। অথচ সন্ধ্যা হলেই আমরা ডাকাতির খপ্পরে পড়ার ভয়ে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তারাতারি বন্ধ করে বাড়িতে চলে যাই। এতে করে আমারা ও অত্র উপজেলা সার্বিকভাবে অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মূখীন হচ্ছি ও আমাদের কর্মঘন্টা নষ্ট হচ্ছে। গুটিকয়েক ৮-৯ জনের ডাকাতের দল এভাবে ৩০ হাজার মানুষের সমস্যার কারন হয়েই থাকবে আর প্রশাসন নিস্ক্রিয় ভূমিকায় থাকবে তা কোন সুস্থ বিবেকবান মানুষ মেনে নিতে পারে না। তাছাড়া এই রাস্তায় কিছুদিন পরপর ডাকাতরা সক্রিয় হয়ে রাত আটটা বাজার পরপরই সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে। এই পর্যন্ত অনেকগুলো রেজিট্রেশন করা মটরসাইকেল নিয়ে গিয়েছে যার একটিও এখন পর্যন্ত আমাদের থানার বীর পুলিশবাহিনী উদ্ধার করে তাদের পারদর্শিতা প্রমাণ করতে পারেনি। এছাড়াও আমাদের জন্য অতিরিক্ত হিসেবে ডাকাতদের পক্ষ থেকে শারিরিক নির্যাতন তো রয়েছেই! পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় অবশিষ্ট থাকবে না। আমরা পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নবাসী আপনার নিকট এই জঘন্য সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য আর্জি পেশ করছি। দয়া করে আমাদেরকে এই রাস্তাটিতে নিরাপদভাবে চলাফেরা করার সুযোগ করে দিন।

প্রতিবাদ সমাবেশের বক্তব্য রাখেন সাদকপুর গ্রামের কুদরত উল্লাহ রানা, গোবিন্দপুর গ্রামের রকি, সুমন, পীরযাত্রাপুর গ্রামের মোঃ খাইরুল ইসলাম, গোপিনাথপুর গ্রামের মোঃ সুজন, উত্তর শ্যামপুর গ্রামের ইঞ্জিনিয়ার আবু ইউসুফ। সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন এনামুল হক শিশির, নাজমুল, মেহেদী হাসান, ইমরান, জয়দল, মাহফুজ, আলামিন, জাহিদ হাসান সৈকত, জামসেদ, লিটন, সূজন, সবুজ, মেহেদী ও অরো অনেকে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: