কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি এলাকায় বাখরাবাদ গ্যাস ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড’এর একটি ভিজিল্যান্স দল গতকাল সোমবার অভিযান চালায়। এসময় সেখানে কমপক্ষে দু’শতাধিক গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মালামাল জব্দ করে । এসময় গ্রাহকরা নিয়মিত বিল পরিশোধের কথা বলে বিল বই দেখালেও তারা বলেন,সংযোগগুলো অবৈধ। এঅবস্থায় তীব্র জ্বালানী সংকটে পড়েছে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া পরিবারগুলো।

স্থানীয় ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো থেকে জানা যায়, জেলার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের শাহদৌলতপুর ও গন্ডুল গ্রামে গতকাল সোমবার বাখরাবাদ গ্যাস ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড এর একটি ভিজিল্যান্স দল অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নে অভিযান চালায়। দিনভর এই অভিযান পরিচালনাকালে শাহদৌলতপুর গ্রামের প্রায় ২’শ ২০ এবং গন্ডুল গ্রামে ৮০ টি আবাসিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে।

ভিজিল্যান্স দলের সদস্যরা এসময় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মালামাল জব্দ করে নিয়ে যায়। শাহদৌলতপুর গ্রামের কামাল হোসেন, মালেক মাষ্টার , সফিক কন্ট্রাক্টর , আলমগীর হোসেন,আনোয়ার হুজুর প্রমুখ জানান, তারা বিগত ৩/৪ বছর ধরে গ্যাস ব্যবহার করছেন এবং নিয়মিত গ্যাস বিল পরিশোধ করছেন। তারা আরো বলেন, আমরা প্রত্যেকেই ৮০ হাজার থেকে দেড়লাখ টাকা ব্যায়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানীর ঠিকাদারের মাধ্যমে সংযোগ এনেছি। তারা আরো বলেন, এসময় কোম্পানীর সংযোগ প্রদানের কোম্পানীর গাড়ি ব্যবহার করে সংযোগ দেয়। এসময় আমাদেরকে বিল পরিশোধের জন্য বই দেওয়া হয়। যার সুত্র ধরে আমরা বছরের পর বছর ধরে গ্যাস বিল পরিশোধ করে আসছি। এসময় গ্রাহকরা সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করতে ভিজিল্যান্স দলের সদস্যদের অনুরোধ করলেও তারা কোন কর্নপাত করেননি। গ্রাহকরা এসময় সংযোগ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করলেও সংযোগ বিচ্ছিন্ন ঠেকাতে পারেনি।

বিষয়টি জানতে সাংবাদিকরা গ্রাহকদের সংযোগ প্রদানকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ফাহিম এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী আক্তার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, টেনশনের কোন কারণ নেই। আমি এমডি’র সাথে কথা বলে পুনরায় লাইনের ব্যবস্থা করে দেব।

এদিকে ভিজিলান্স দলের প্রধান বাখরাবাদ গ্যাস ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড’র ডিজিএম আজহারুল আলম সাংবাদিকদের জানান, ময়নামতির শাহদৌলতপুর ও গন্ডুল গ্রামে প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছি। এসব সংযোগ ও বিল বই সবই অবৈধ। এসময় তিনি আরো বলেন, যদি এই অবৈধ সংযোগ এর ঘটনায় কোন ক্ষতিগ্রস্থ লোক বাখরাবাদের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী বা অন্য কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন,তখন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য একটি অসাদূ,দুর্নীতিপরায়ন চক্র অবৈধভাবে নিরিহ গ্রাহকদের বৈধতার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর ওই সব গ্রাহকরা পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির অনুকুলে বিল পরিশোধ করে দু’দিকেই প্রতারিত হচ্ছেন। আর দফায় দফায় ভিজিল্যান্স টিম অভিযান চালিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্নের পর তারা জানতে পারে প্রতারনার রহস্য।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: