করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের দশম দিনে কুমিল্লা নগরীতে যান চলাচল ও জনসমাগম বেড়েছে। গত কয়েকদিনের তুলনায় নগরীর টমছম ব্রিজ, কান্দিরপাড়, শাসনগাছা, রাজগঞ্জ, মোঘলটুলি, চকবাজারসহ আশপাশের সড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। মানুষের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে চোখে পড়ার মতো।

নিত্যপ্রয়োজনীয় ও খাবারের দোকান ছাড়াও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কয়েকটি এলাকায় প্রেস মার্কেট, কসমেটিক্স ও স্টেশনারিসহ বিভিন্ন দোকানের সাটার খোলা রয়েছে।

শনিবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

সরেজমিনে দেখা যায়, টমছম ব্রিজ, কান্দিরপাড়, শাসনগাছা, রাজগঞ্জ, মোঘলটুলি, চকবাজারসহ আশপাশের সড়কে ছিল যানবাহন ও মানুষের ভিড়। খোলা স্থানে কাঁচাবাজার বসানো হলেও কেউই মানছেন না সামাজিক দূরুত্ব। মাস্ক না পরে বাজার-সদাই করেতে দেখা গেছে অনেককে। গাদাগাদি করেই চলছে বেচাকেনা। ফুটপাতে দোকান খুলে বিক্রি করতে দেখা গেছে কাপড়-চোপড়।

নিউ মার্কেট এলাকায় আবু মুসা নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘লকডাউনে ব্যবসা-বাণিজ্য সব শেষ। বাসায় থাকতে আর ভালো লাগছে না। তাই পরিস্থিতি বুঝতে ঘর থেকে আজ বের হলাম।’

কান্দিরপাড় এলাকায় ফুটপাতে এক কাপড় ব্যবসায়ীকে দোকান খুলে বেচাকেনা করতে দেখা যায়। লকডাউনে কেন দোকান খুলেছেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘ভাই, হাতে টাকা-পয়সা একদম নেই। তাই আজ খুললাম। যদি কয়েক টাকা আয় হয় তা দিয়েতো চাল- তরকারি কিনতে পারমু।’

এদিকে কঠোর লকডাউন নিশ্চিতে নগরীতে জেলা প্রশাসনে পক্ষ থেকে ছয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছেন। দুপুর ১টার দিকে প্রিন্টিং মার্কেট খোলা রাখার দায়ে নিউ মার্কেট এলাকায় অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া সেনাবাহিনীর তিনটি দল নগরীর বিভিন্ন সড়কে টহল দিতে দেখা গেছে।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, সরকারি বিধিনিষেধ কার্যকরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করছেন। যারা আইন অমান্য করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি বিধিনিষেধ ভঙ্গ করলে আমরা আরও কঠোর হবো। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: