কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় সারাদেশে শনিবার আনন্দ শোভাযাত্রা করার সিদ্ধান্ত পালন করেনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়নে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি কর্তৃপক্ষকে। আনন্দ শোভাযাত্রা না হওয়ায় চরম মাত্রার ক্ষোভ বিরাজ করছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার শিক্ষক সমিতির উপর মিথ্যাচার করে আনন্দ শোভাযাত্রা আয়োজন করেননি বলে অভিযোগ করেন শিক্ষক ও ছাত্রলীগ নেতারা।

জানা যায়, ইউনেস্কা কর্তৃক বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ ঘোষণা করায় শনিবার প্রধানমন্ত্রীরে কার্যালয় থেকে সারাদেশে আনন্দ শোভাযাত্রা পালনের নির্দেশ দেয়া হয় । সারাদেশে আনন্দ শোভাযাত্রা পালিত হলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন আনন্দ শোভাযাত্রা করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিকে আনন্দ শোভাযাত্রা না করে সরকারের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এমন ক্ষোভ পুরো বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে। আনন্দ শোভাযাত্রা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ে না হয় এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শিক্ষক সমিতির নামে উপাচার্যের কাছে মিথ্যাচার করেছেন এমন অভিযোগও উঠেছে রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপাচার্য শোভাযাত্রায় অংশগ্রহন করলে শিক্ষক সমিতি বাধা দিবে এমন তথ্য উপাচার্যকে জানান রেজিস্ট্রার। শিক্ষক সমিতির এমন কথা ছাত্রলীগের সভাপতিকেও জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার। রেজিস্ট্রারের সাথে শিক্ষক সমিতির এ বিষয়ে কোন ধরনের কথা হয়নি বলেও শিক্ষক সমিতির নেতারা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তবে রেজিস্ট্রার সাংবাদিকদের আবার ভিন্ন তথ্য জানান, শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধের দিন হওয়ায় আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিষয়টি নিয়ে উপাচার্যের সাথে কথা বললে উপাচার্য বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতিতে রেজিস্ট্রারকে এ বিষয়ে আমি শিক্ষক সমিতির সাথে কথা বলতে বলেছি। রেজিস্ট্রার আমাকে জানিয়েছে আমি অংশগ্রহণ করলে শিক্ষক সমিতি র‌্যালি করতে দিতে আগ্রহী নয়।’

তবে শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ‘সরকারের কোন সিদ্ধান্ত হলে তা তো শিক্ষক সমিতির সাথে আলোচনা করে করার কথা নয়। আর রেজিস্ট্রার শিক্ষক সমিতির সাথে আনন্দ শোভাযাত্রার বিষয়ে কোন আলোচনাই করেননি।’ তিনি সাংবাদিকদের আরো বলেন, ‘বর্তমান উপাচার্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াত-বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জামায়াতিকরণ করেছেন। তাই সরকারি এ সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আনন্দ শোভাযাত্রা করেননি উপাচার্য।’

আনন্দ শোভাযাত্রা নিয়ে কেন মিথ্যাচার করা হয়েছে এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার মো: মজিবুর রহমান মজুমদার বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, ‘শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় সম্ভব ছিল না। সোমবার কর্মসুচী পালন করা হবে।’

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: