বশিরুল ইসলামঃ সন্তান ও জরায়ু হারিয়ে জুলেখা মানুষিকভাবে অনেকটা ভেঙ্গে পড়েছেন। তার হাসপাতালে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। তার স্বামী সফিক কাজী ও তেমন কোন উপার্জন করতে পারেন না। গতকাল (২৯ মার্চ) বৃহস্পতিবার বিকেলে ডাক্তার আল্ট্রনোগ্রাফী একটি পরীক্ষা দিলেও টাকার অভাবে সেটি করতে পারছিলেন না। টাকার অভাবে ঠিকভাবে মনচাইলেও কিছু খেতে পারছেনা। জুলেখা শুধু সামনের দিকে অন্ধকার আর অন্ধকার দেখছে। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে সে শুধু চোখের পানি ফেলছে আর অনাগত দিনের কথা ভাবছে। কি হবে তার কিভাবে কাটবে বাকী দিন গুলো।

আজ (৩০ মার্চ) শুক্রবার সকাল ১০টায় হাসপাতালে গিয়ে তার সাথে কথা বলে জানা যায় এসব তথ্য। পরে আফরোজা আক্তার সুইটি নামে এক মহিলাকে জানালে তিনি রোগীটিকে এসে নিজে দেখে কিছু টাকা দেন এবং কিছু ঔষধ কিনে দেন। পরে আরো এক ব্যক্তি তাকে কিছু টাকা দেয়। কিন্তু তিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।

সহযোগীতাকারী এই দুই ব্যক্তির বক্তব্য, অসহায় এই রোগীটির কাছে অনেক কিছু মনে হলেও আমরা যারা সমাজে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল আছি তাদের কাছে কিছুই না। আমরা সামান্য করে সহযোগীতা করলে তার জন্য অনেক বড় কিছু হয়ে দাড়াবে। আশা করি আরো অনেকে এগিয়ে আসবে।

উল্লেখ্য গত ১৭ মার্চ প্রসব বেদনা নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয় জুলেখা। ভর্তির পর ১৮মার্চ তার দ্বিখন্ডিত বাচ্ছা সিজার হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরনের কারণে ডাক্তার তার জরায়ু কেটে ফেলতে বাধ্য হয়। এ বিষয়ে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াতে খবর প্রকাশ হওয়ার পর উচ্চ আদালতে চিকিৎসার সাথে জড়িত ৫ডাক্তার, হাসপাতালের পরিচালক ও সিভিল সার্জন কে ৪এপ্রিল ব্যাখ্যা দিতে বলে। তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবেনা এ বিষয়ে একটি রুল জারি করে। ১৭ মার্চ থেকে অসহায় এই মহিলাটি তার মাকে নিয়ে অদ্যাবধি হাসপাতালে এখনো চিকিৎসাধীন।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: