৩৫০ কোটি টাকার ঋণখেলাপির পরও চরমোনাইয়ের মনোনয়ন, জিজ্ঞেস করলে অন্য প্রার্থী বললেন – মুসলমানের দোষ গোপন রাখা উত্তম

আদর্শিক রাজনীতি আর ধর্মীয় নৈতিকতার স্লোগান দিয়ে মাঠে থাকা চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি)-এর প্রার্থী নির্বাচনে বড় ধরনের নৈতিক স্খলনের চিত্র ফুটে উঠেছে। দলটির প্রার্থী মজিবুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে ৩৭১ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ খেলাপি হওয়ার তথ্য সামনে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই বিশাল আর্থিক অনিয়মকে ছাপিয়ে আলোচনায় এসেছে দলটির অন্য এক নেতার মন্তব্য, “মুসলমানের দোষ গোপন রাখা উত্তম।”

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মজিবুর রহমান শামীম এক সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে দলবদল করে তিনি ইসলামী আন্দোলনের পতাকাতলে আসেন। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা এবং সিআইবি (CIB) রিপোর্ট অনুযায়ী, শামীমের নিজের নামেই ঋণের পরিমাণ ৩৭১ কোটি টাকা। এছাড়া তার স্ত্রীর নামে রয়েছে আরও ৮৩ লাখ টাকার ব্যক্তিগত ঋণ। তার মালিকানাধীন জয় ফিড মিলস, জয় জুট মিলস, সাউথ হ্যাচারি এবং জয় শিপিং লাইনসসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের নামে ইসলামী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক এবং পদ্মা ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংকে এই খেলাপি ঋণের পাহাড় গড়ে উঠেছে।

বিশাল অংকের এই ঋণখেলাপির বিষয়ে যখন দলের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়, তখন ঢাকা-৮ আসনের আইএবি প্রার্থী মুফতি কেফায়েতুল্লাহ কাশফী এক বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ইসলামের খাতিরে অন্য মুসলিম ভাইয়ের দোষ গোপন রাখা ভালো। আমাদের উচিত তার ভালো গুণগুলো তুলে ধরা।” শুধু তাই নয়, সাংবাদিকদের এই বিষয়ে প্রশ্ন না করতেও নিরুৎসাহিত করেন এই নেতা।

অন্যদিকে, দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বিষয়টিকে রাজনৈতিক বৈষম্য হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, দেশে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপিরা নির্বাচন করতে পারলে শামীমের ক্ষেত্রে কেন প্রশ্ন উঠছে। তবে দলের পক্ষ থেকে সাফাই গাওয়া হলেও, নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত শামীমের প্রার্থিতা বাতিল করে দিয়েছে।

সূত্র: দ্য ডেল্টাগ্রাম

আরো পড়ুন