ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভাঙচুর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাগুরা সদর উপজেলার একটি ভোটকেন্দ্রে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এর আগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাগুরা-১ নির্বাচনি এলাকার ছোটফালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মাগুরা জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের নির্দেশনায় মঙ্গলবার বিকেলে ভোটকেন্দ্রটিতে দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। নির্বাচন কার্যক্রম সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরাপদভাবে তদারকির লক্ষ্যে ক্যামেরাগুলো বসানো হলেও স্থাপনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয় একটি ক্যামেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি লাঠি দিয়ে আঘাত করে ক্যামেরাটি ভেঙে ফেলে। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর ওই এলাকার সব ভোটকেন্দ্রে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ভাঙচুর হওয়া ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, এক ব্যক্তি সরাসরি লাঠি দিয়ে ক্যামেরাটিতে আঘাত করে ভেঙে ফেলছেন। তবে আলোর স্বল্পতার কারণে ওই ব্যক্তির মুখমণ্ডল স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

ছোটফালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ভোটকেন্দ্রটির সামনে একটি বড় খেলার মাঠ এবং পাশে একটি নিরিবিলি সড়ক রয়েছে। এসব স্থান নির্বাচন চলাকালে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় মাঠ ও সড়কের ওপর নজরদারি বাড়াতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু রাতের মধ্যেই দুর্বৃত্তরা ক্যামেরা দুটির একটি ভাঙচুর করে। সকালে বিদ্যালয়ের নাইটগার্ড ক্যামেরাটি ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে স্থানীয় ছয়জন যুবককে শনাক্ত করা হয়েছে, তারা এই ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভোটকেন্দ্রে এ ধরনের ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সচেতন মহল মনে করছে, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি

আরো পড়ুন