কুমিল্লায় ১২শ টাকাতেও মিলছে না শ্রমিক, দুশ্চিন্তায় কৃষক

কুমিল্লার মাঠে এখন পাকা ধানের ছড়াছড়ি। কোথাও ধান কাটার ব্যস্ততা, কোথাও মাড়াই শেষে ঘরে তোলার প্রস্তুতি। তবে এই ব্যস্ততার মাঝেই বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শ্রমিক সংকট। দৈনিক ১২০০ টাকা মজুরি দিয়েও মিলছে না ধান কাটার শ্রমিক। ফলে বিপাকে পড়েছেন জেলার কৃষকেরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাঙ্গলকোট, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, চৌদ্দগ্রাম, লালমাই, বড়ুয়া, চান্দিনা, সদর দক্ষিণ, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়াসহ জেলার ১৭ উপজেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুম চলছে। এ বোরো মৌসুমে প্রধান লক্ষ করে কৃষক ধান ফলায়। আর নিজেদের খাবারের জন্য সারা বছর ধান রেখে আর বাঁকি ধান বিক্রি করে দেয়।
কিন্তু চিত্র ভিন্ন, যদিও কিছু কৃষক আগাম ধান কেটে ফেলেছে। আবার কেউবা ধান কেটে শুকানোর জন্য জমিনে রেখে দেয়। হঠাৎ বৃষ্টিতে ওই শোকনো ধান বিজে যায়। এতে অনেক ধান পচে যায়। আবার ওই ধান শুকাতে বারতি টাকা গুণতে হচ্ছে।
এদিকে গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সঠিক সময় ধান কাটতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েছে কৃষক। তাই সব এলাকায় এক সঙ্গে ধান পাকায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিজন শ্রমিক দুই বেলা নাস্তা ও দুই বেলা ভাত খাইয়ে দৈনিক মজুরি ১২ শত টাকা দিতে হয়। আবার অন্যদিকে চুক্তিভিত্তিক ৫ শতক (১ গন্ডা) ১২ শত টাকায় কাটছে। তারপরেও মিলছে না শ্রমিক। এই নিয়ে দুশ্চিন্তার পড়ছেন কৃষকরা।
এ বিষয়ে কথা হয় নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকরা ইউনিয়ন গোমকোট গ্রামের কৃষি সামছুর সঙ্গে। তিনি বলেন, বৃষ্টির আগে ১ শত ২০ শতক জমির ধান কেটেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। বৃষ্টিতে সব ধান বিজে গেছে। এতে প্রায় ১ শত মন ধান নষ্ট হয়ে যায়। পুরো গ্রামে প্রায় বাড়ির ছাদে ধান শুকাতে দিয়েছি। কষ্টের কোনো শেষ নেই। এবার আল্লাহ ধান দিয়েছে। এখন বৃষ্টি দিয়ে ভিজিয়েছেন। কি কবর বুঝতেছি না।
একই গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস বলেন, তিনি ১ কানি ৫ গন্ডা ধান হিরা ১৯ ধান করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে। প্রতি গন্ডায় ৪-৫ মন করে ধান হবে। কিন্তু সব ধান একসঙ্গে পেকে যাওয়ার ফলে ধান কাটার জন্য শ্রমিক পাচ্ছিনা। ইতি মধ্যে বেশি পাঁকার কারনে ধান জমিতে ঝরতে শুরু করেছে। সমস্যা হলো আমাদের এলাকায় প্রায় ঘরে ২-৩ জন করে প্রবাসে রয়েছে। আমাদের দেশে মানুষ তেমন কোন কাজ করে না। সবাই রংপুর সহ বিভিন্ন এলাকার শ্রমিকদের উপর নির্ভরশীল। এবার সব কৃষকের ধান একসঙ্গে পেকে গেছে। ১২ শত কাটা করেও শ্রমিক পাচ্ছিনা।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলার কৃষি অফিসার মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন, ১৩ হাজার ৪ শত ১৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ১৩ হাজার ৪ শত ২০ লাখ মাত্র অর্জন হয়েছে। পুরো উপজেলা ১৩টি রিপার (ধান কাটার যন্ত্র) বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। ইতিমধ্যে ২৫ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, চলমান বোরো মৌসুমে কুমিল্লা জেলায় ১ লাখ ৬২ হাজার ২১৫ হেক্টর জমিতে বোরোধান আবাদ করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ইতোমধ্যে বোরোধান কর্তন শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ধান কাটতে কৃষকগন অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন। এ বছর আধুনিক জাতের মধ্যে ব্রিধান ৭৪, ৮১, ৮৪, ৮৮, ৮৯, ৯২, ১০০, ১০২, ১০৪, ১০৮ কৃষকগণ আবাদ করেছেন। আশা করি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কৃষকগণ তাদের কাঙ্খিত বোরো সোনালী ধান ঘরে তুলতে পারবেন। শ্রমিক স্বল্পতার বিকল্প হিসাবে জেলা উপজেলা পর্যায়ে রিপার ও কম্বাইন্ড হার্ভেস্টারের মাধ্যমে ৩০% জমির বোরোধান কর্তনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
