কুমিল্লার নিশ্চিন্তপুরে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ দাবিতে মানববন্ধন

কুমিল্লার ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, যেখানে প্রতিদিন হাজারো যানবাহনের গর্জন। আর সেই সড়কই হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মৃত্যুর সিঁড়ি’। নিরাপদ পারাপারের দাবিতে এবার রাস্তায় নেমেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা। একটাই দাবি- নিশ্চিন্তপুরে দ্রুত একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ। ঘটনাটি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর (নামার বাজার) এলাকায়। গত সোমবার দুপুরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা।

স্থানীয়দের দাবি, এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রয়েছে কুমিল্লা সেনানিবাস, পাশাপাশি মাত্র ১০০ গজের মধ্যে ১০-১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপার করছেন। সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা- যার ফলে মানুষের চলাচল আরো বেড়েছে। কুমিল্লা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সালাহ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সড়ক পার হয়। দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ভয়াবহ। একটি ফুটওভার ব্রিজ এখন সময়ের দাবি।’ অন্যদিকে, আসলাম খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফেরদৌসী আক্তার বিথী বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হয়। আমরা আর কোনো দুর্ঘটনা দেখতে চাই না- দ্রুত সমাধান চাই।’ মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানান, অতীতে এই এলাকায় একাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তবুও স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ী জাকির হোসেন, সাজ্জাদ সাজু, কামরুল হাসান, নুরুল হক, কাজী মাসুমসহ পাঠশালা কলেজ, কুমিল্লা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আসলাম খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গ্রিন বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ মাদরাসা শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এলাকাবাসীর একটাই আহ্বান- ‘আর নয় ঝুঁকি, চাই নিরাপদ পারাপার।’

এ বিষয়ে কুমিল্লা সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে অফিসিয়ালি আবেদনের প্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই করে স্থানটি পরিদর্শন শেষে যদি ফুটওভার ব্রিজ করার মতো হয়, তবেই হবে।’

আরো পড়ুন