ভারতে আবারও ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে বাঙালি শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা

ভারতে আবারও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের এক মুসলিম শ্রমজীবীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে ঝাড়খণ্ডে নিজঘর থেকে এই শ্রকিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এঘটনার জেরে শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় রেললাইন ও মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানায় ক্ষুব্ধ জনতা। খবর ইটিভি ভারতের।

নিহত এই শ্রমিকের নাম আলাউদ্দিন শেখের(৩৬)। তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙা থানার কুমারপুর পঞ্চায়েতের সুজাপুর গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ৫ বছর আগে উপার্জনের আশায় ঝাড়খণ্ড যান তিনি; সেখানে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন।

পরিবারের অভিযোগ, আলাউদ্দিন কয়েকদিন ধরেই নিদারুণ আতঙ্কে ছিলেন। গ্রামগুলোতে ফেরি করতে গিয়ে তাকে বারবার বাংলাদেশি হিসেবে হেনস্তা ও শারীরিক লাঞ্ছনা করা হচ্ছিল। এমনকি নিজের ভারতীয় পরিচয়পত্র আধার কার্ড দেখালেও স্থানীয় উগ্রবাদীরা তা বিশ্বাস করেনি। গত বুধবার ফোনে তিনি পরিবারের কাছে প্রাণনাশের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।

ঘটনার খবর মুর্শিদাবাদের সুজাপুর গ্রামে পৌঁছাতেই স্থানীয়রা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। রেললাইন ও মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানায় ক্ষুব্ধ জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‍্যাফ) মোতায়েন করতে হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, যে ছবি তারা পেয়েছেন—সেখানে দেখা যাচ্ছে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় বসে আছেন আলাউদ্দিন। তার ভিত্তিতেই পরিবারের অভিযোগ, আত্মহত্যা নয় খুন করা হয়েছে আলাউদ্দিনকে। এরপর প্রমাণ লোপাটে গলায় ফাঁস দেওয়া হয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ড ভারতে চলমান অনুপ্রবেশকারী বিতর্ক এবং জাতিগত বিদ্বেষকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এই ইস্যুটি এখন সাধারণ শ্রমজীবীদের প্রাণের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য বড় হুমকি।

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরেও একই অভিযোগে ওড়িশা রাজ্যে এক নির্মাণ শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

আরো পড়ুন