করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে প্রায় তিনমাস দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ বন্ধে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের শিক্ষা কার্যক্রম।তাই এ শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে এর মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। অনলাইন ক্লাস তেমনি একটি উদ্যোগ।

তবে অনলাইন ক্লাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আছে ভিন্নমত। অনলাইনে ক্লাস করতে শিক্ষার্থীরা কেমন আগ্রহী তা নিয়ে সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের শিক্ষার্থীদের উপর অনলাইন জরিপ চালানো হলে সেখানে দেখা যায় শতকরা ৮৪.৯৫ ভাগ শিক্ষার্থী অনলাইনে ক্লাস করতে আগ্রহী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের আনঅফিশিয়াল ফেইসবুক গ্রুপে পরিচালিত জরিপে উক্ত অনুষদের চারটি বিভাগে অধ্যায়ণরত ২০৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে ১৭৫ জন শিক্ষার্থী অনলাইনে ক্লাস করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন বাকি ৩১ জন শিক্ষার্থী ভোট দিয়েছেন অনলাইনে ক্লাস করার বিপক্ষে।

এ প্রসঙ্গে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থীর কথা হয়।একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের রায়হানুর রহমান বলেন,সার্বিক পরিস্থিতির সাথে তালমিলিয়ে আমাদের ক্লাস করা উচিত। যারা মেগাবাইট আর নেটওয়ার্ক এর দোহায় দিচ্ছে। তারা হয়তো বিষয়টা আমলে নিচ্ছে নাহ যে নিজেকে কতটা পিছনে ফেলে দিচ্ছে এই একটি অজুহাতের দ্বারা। কেউ লাইভ মিস করলেও সেটা পরে দেখার সুযোগ তো থাকছেই। তাছাড়া এ্যাসাইনমেন্ট,ট্রাম পেপারসহ যে সকল বিষয় গুলো একটু বুঝিয়ে দিলেই নিজেরা করা যাবে তা করা হলেও অনেকটা এগিয়ে থাকবে শিক্ষার্থীরা।আশা করি বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের সকল ডিপার্টমেন্ট সবার আগে অনলাইন ক্লাস শুরু করবে।

মার্কেটিং বিভাগের খাইরুল ইসলাম বলেন, আমি মনে করি বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের প্রত্যেকটি বিভাগেই অনলাইন ক্লাশ শুরু হওয়া উচিত।একজন বিবিএ’র শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদেরকে অনলাইন প্রযুক্তি সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি ভিডিও কনফারেন্সিং সহ নানাবিধ অনলাইন কার্যক্রমের সাথে পরিচিত হওয়া প্রয়োজন। সেজন্যে করোনা মহামারীর এই সময়টাকে আমরা একটা সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে পারি।আশা করি দেশে ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার শুরুটা এখান থেকেই হবে।

এদিকে ভিন্নমত প্রকাশ করে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের বোরহানুল ইসলাম ইমন বলেন, অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের স্যারেরা কতটুকু অনলাইন ক্লাস ফ্রেন্ডলি তাও বিবেচনায় নেয়া উচিত। ক্লাসের ভিডিও রেকর্ডিং থাকলে ভাল। তবে সেক্ষেত্রে স্যারেরা সাধারণ ক্লাসের মত আমাদের সাথে ইন্টারেকশন করতে কমফোর্ট ফিল করবে বলে মনে হয় না কারন ভিডিও রেকর্ড থাকলে স্যারেরা মেপে মেপে কথা বলবে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পক্ষ কি সব স্টুডেন্ট দের এটেন্ডেন্স নিশ্চিত করতে পারবে অনলাইন ক্লাসে? কর্তৃপক্ষ সবার এটেন্ডেন্স নিশ্চিত করতে পারলে এবং স্যারেরা আগ্রহী হলে সেক্ষেত্রে সম্ভব।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: