অভিভাবকহীন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

ডেস্ক রিপোর্টঃ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহ-উপাচার্য নেই। গত ২৫ এপ্রিল থেকে শূন্য কোষাধ্যক্ষের পদ। সর্বশেষ ২ ডিসেম্বর উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এই পদটিও শূন্য হয়ে আছে। এর ফলে অভিভাবকহীন অবস্থায় চলছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ চলছে ঢিমেতালে।

অবশ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, উপাচার্য নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতি (আচার্য) বরাবর সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে। তাঁরা আশা করছেন, শিগগির উপাচার্য নিয়োগ হয়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নতুন উপাচার্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক অধ্যাপকের নাম আছে আলোচনায়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশোধিত আইনানুযায়ী উপাচার্যের পদ শূন্য হলে সহ-উপাচার্য দায়িত্ব পালন করবেন। আর পুরোনো আইনানুযায়ী, উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে অথবা পদ শূন্য হলে কোষাধ্যক্ষ দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু এখন সেই সুযোগও নেই। সর্বশেষ উপাচার্য অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ মেয়াদ শেষ হওয়ার এক দিন আগে ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর পুরোনো কর্মস্থলে ফিরে গেছেন।

সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও গুরুত্বপূর্ণ ৯টি পদ শূন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু হওয়ার পর থেকেই নেই গ্রন্থাগারিক। পরিচালকের (গবেষণা ও সম্প্রসারণ; বহিরাঙ্গন কার্যক্রম; অর্থ ও হিসাব ও শরীরচর্চা শিক্ষা) পদ শূন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান চিকিত্সা কর্মকর্তা ও জনসংযোগ কর্মকর্তার পদও শূন্য। এ ছাড়া পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের পদ শূন্য।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, উপাচার্যের পদটি শূন্য হওয়ার তথ্য জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য কয়েকটি পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।

২০০৬ সালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন হয়। আর ২০০৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক উপাচার্যকে আন্দোলনের মুখে পড়তে হয়েছে। সর্বশেষ উপাচার্যও শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে গত ১৫ অক্টোবর থেকে নিজ কার্যালয়ে যেতে পারেননি।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আবু তাহের বলেন, যত দ্রুত সম্ভব উপাচার্য পদে নিয়োগ দিতে হবে। অন্যথায় ভর্তিপ্রক্রিয়াসহ নানা বিষয়ে আরও সংকট তৈরি হবে।

সূত্রঃ প্রথম আলো