আজ ১৪ নভেম্বর, বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশন (IDF) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ১৯৯১ সালে ডায়াবেটিস দ্বারা সৃষ্ট স্বাস্থ্যের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালন শুরু করে। ডায়াবেটিস অন্ধত্ব, কিডনি রোগ, হৃদরোগ , অঙ্গহানী ও অকাল মৃত্যুর প্রধান কারন। প্রাথমিক দিক থেকে সাধারন কিছু পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে এই ধরনের ঝুঁকি হ্রাস করা যেতে পারে, আর সেটা হতে পারে পরিবার এর মাধ্যমেই। আর এই জন্যই গতবারের ন্যায় এবারেও ডায়াবেটিস দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে “পরিবার ও ডায়াবেটিস” এবং এর প্রচারের জন্য স্লোগান হচ্ছে, আসুন পরিবারকে ডায়াবেটিস মুক্ত রাখি।

এবারের বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসের প্রধান তিনটি আলোকপাতের ক্ষেত্র হচ্ছেঃ
১। ডায়াবেটিস নির্নয় করা
২। ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা
৩। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করা

ডায়াবেটিস নির্নয় করা: প্রতি দুইজন ডায়াবেটিস রুগির মধ্যে ১ জনই অনির্ণীত রয়ে যায়। স্বল্প সময়ে ডায়াবেটিস পরিক্ষা ও নির্ণয়ের ক্ষেত্রে পরিবারের ভুমিকা অপরিসীম। তাছাড়া, টাইপ-১ ডায়াবেটিসটি যদি প্রাথমিকভাবে সনাক্ত না করা হয় তবে এটি মারাত্মক অঙ্গহানী ও মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা: ডায়াবেটিস প্রতিরোধে পরিবারের অপরিসীম অবদান রয়েছে, যেমন,

  • বাচচাকে মাতৃদুগ্ধ ব্যাতীত অন্য কোনো প্রকৃয়াজাত দুধ পান করতে না দেয়া।
  • বাচচাদের হাতে অল্প বয়সে মোবাইলফোন, ল্যাপটপ, ভিডিও গেমস এর মতো ইনডোর খেলার সামগ্রী না দিয়ে আউটডোর খেলায় উৎসাহীত করা।
  • যখন কোনো পরিবার স্বাস্থ্যকর খাবার খায় এবং একসাথে অনুশীলন করে, পরিবারের বাকি সদস্যরাও এর দ্বারা উৎসাহীত হয় যা পরিবারে টাইপ-২ ডায়াবেটিস এর ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হয়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করা: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করার ক্ষেত্রে পরিবারও জড়িত। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে প্রতিদিনের চিকিৎসা, নিয়মিত পর্যবেক্ষন, একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা এবং চলমান শিক্ষা প্রয়োজন যার প্রধান সহায়ক হচ্ছে পরিবার। সকল স্বাস্থ্যকর্মিদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও ডায়াবেটিস সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও দক্ষতা থাকা উচিৎ।

তথ্য ও পরিসংখ্যানঃ
• সারা বিশ্বে ৪২৫ মিলিয়ন (৪২ কোটি ৫০ লাখ) প্রাপ্তবয়স্ক (প্রতি ১১ জনে ১ জন) মানুষের ডায়াবেটিস রয়েছে।
• ২০৩০ সালের মধ্যে ডায়াবেটিস রোগীদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৫২২ মিলিয়ন (৫২ কোটি ২০ লাখ)
• প্রতি ২ জনের মধ্যে ১ জনের ডায়াবেটিস এখনো নির্নয়ই করা হয় নি (প্রায় ২১ কোটি ২০ লাখ)
• ডায়াবেটিস রুগিদের প্রতি ৪ জনের মধ্যে ৩ জনই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে বাস করে।
• ১ মিলিয়ন (১০ লাখ) শিশু এবং কিশোরদের টাইপ-১ ডায়াবেটিস রয়েছে।
• প্রতি ৬ জনের মধ্যে ১ জন মহিলা গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসে (জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস)আক্রান্ত হয়।
• ডায়াবেটিক রুগীদের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ কর্মক্ষম (৩২ কোটি ৭০ লাখ)

সুতরাং, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে প্রতিটি মানুষ ও প্রতিটি পরিবারের নিকট চলমান শিক্ষা ও সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে এবং ডায়াবেটিসের জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধ ও সেবা সকল মানুষ ও পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী হতে হবে।

ডাঃ মুহাম্মদ শাহ আলম
এমবিবিএস, এফসিপিএস (মেডিসিন), ডিইএম (বারডেম)
মেডিসিন, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন বিশেষজ্ঞ