নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কুরআন ও হাদিসের মনগড়া ব্যাখ্যা, তবলীগের গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে দ্বীনি শিক্ষা ও তাসাউফ ইত্যাদিকে হেয় প্রতিপন্ন করা, পূর্ববর্তী তিন হয়রত জ্বীর উসূল ও কর্মপন্থা থেকে সরে যাওয়ার কারণে এবার কুমিল্লায় মাওলানা মুহাম্মদ সা’দকে নিষিদ্ধ ও বর্জন ঘোষনা করা হয়েছে। বুধবার কুমিল্লার নগরীর রেইসকোর্স নূর মসজিদে জেলার উলামায়ে কেরাম ও তাবলীগের সাথীদের উদ্যোগে আয়োজিত এক ইসলামী সমাবেশে এই ঘোষণা দেয় তারা। প্রায় ৪০ হাজার উলামা ও ইমামগণের ইসলামী সমাবেশে (ওযাহাতী জোড়) মাও. সা’দকে নিষেধ ঘোষণা দিয়ে দশ দফা ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।

তাবলীগ জামায়ের আয়োজিত ইসলামী সমাবেশে (ওয়াহাতী জোড়) এসময় প্রধান আলোচক ছিলেন, বাংলাদেশ কাকরাইল মসজিদের খতিব ও তাবলীগ জামাতের প্রধান মুরব্বি মাওলানা হাফেজ জুবায়ের। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, কাকরাইল মসজিদের সুরা মাওলানা ওমর ফারুক, বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষাবোর্ডের (বেফাক) মহাসচিব মাও. আবদুল কুদ্দুস, বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল্লামা আশরাফ আলী, বেফাকের সহকারী মহাসচিব মাও. মাহফুজুল হক।

কুমিল্লায় মাওলানা মুহাম্মদ সা’দকে অনুসরণ করা সম্পূর্ণভাবে বর্জনীয় ও নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং দশ দফা ঘোষণাপত্র প্রকাশ করে বক্তরা বলেন, কুরআন ও হাদিসের মনগড়া ব্যাখ্যা,তাবলিগের গুরুত্ব বুঝাতে তাবলিগ ব্যতীত দ্বীনের অন্যান্য মেহনত, দ্বীনি শিক্ষা ও তাসাউফ ইত্যাদিকে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং পূর্ববর্তি তিন হযরত উসূল ও কর্মপন্থা থেকে সরে যাওয়ার কারণে বর্তমানে মাওলানা মুহাম্মদ সাদ সাহেবকে অনুসরণ করা সম্পূর্ণভাবে বর্জনীয় ও নিষিদ্ধ। মাওলানা সা’দ হযরত মাওলানা এনামুল হাসান রহঃ এর রেখে যাওয়া শুরায়ী নেযামকে উপেক্ষা করে নিজেই নিজেকে আমীর দাবী করেছেন যা শরিয়ত বিরোধী। তাই তার কোনোরূপ সিদ্ধান্ত-ফায়সালা বা নির্দেশ কুমিল্লাসহ বাংলাদেশের কোথাও বাস্তবায়ন করতে দেয়া যাবে না।

এছাড়া, দারুল উলূম দেওবন্দ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, মাওলানা সা’দ আহলে সুন্নাতওয়াল জামাতের মতাদর্শ থেকে সরে গিয়ে নতুন কোনো ফেরকা গঠনের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এহেন পরিস্থিতিতে কোনো জামাত বা ব্যক্তিকে নেযামুদ্দীনে পাঠানো বা যাওয়া মুনাসিব হবে না। অনুরূপভাবে নেযামুদ্দীন থেকে আগত কোন জামাতকে দেশের কোথাও কাজ করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।

তারা আরও বলেন, তাবলীগ জামাতের বিশ্বব্যাপী দাওয়াতী কার্যক্রম প্রায় শতাব্দীকাল থেকে চলে আসছে। বড় বড় বুজুর্গদের জান মালের কোরবাণীর বদৌলতে দাওয়াত ও তাবলীগের এই মেহনত সারা বিশ্বব্যাপীতে ছড়িয়ে পড়েছে। এই মেহনতের মাধ্যমে মুসলমানদের মধ্যে ঈমান, আমল ও চারিত্রিক গুণাবলীর এক বিশাল পরিবর্তনও উন্নতি সাধিত হয়ে একজন মুসলমান বিশ্বের জন্য শান্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিত হচ্ছিলো। আজ সেই মেহনত বিভিন্ন সমস্যায় জড়িত হয়ে মেহনতের সাথে সম্পৃক্ত ব্যাক্তিবর্গের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও পরস্পর বিরোধ পরিলক্ষিত হচ্ছে। অনেকে মনে করেন এগুলো নিছক দলাদলি বা দখল-বেদখলের ঝগড়া। প্রকৃত কারণ অনেকের কাছে অনেকের কাছে অস্পষ্ট ও অজ্ঞাত।