কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের জাঙ্গালীয়া গ্রামে কনফিডেন্স কোচিং সেন্টার’এ মাদক সেবীদের মাদকসেবনে বাঁধা দেওয়ায় ঘটনায় অহিদুল ইসলাম নামের এক শিক্ষক হামলার শিকার হয়েছে। এতে সে গুরুতর আহত হয়। এই ঘটনায় ৭ নভেম্বর শনিবার কোতয়ালী মডেল থানায় ৩ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত ২/৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, জেলার আদর্শ সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের জাঙ্গালীয়া গ্রামের ক্ষনিকালয় নামের একটি ভবনে একই গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে অহিদুল ইসলাম ‘কনফিডেন্স’ নামের একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করে আসছিল। করোনার প্রভাবের কারণে কোচিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার সুযোগে সাম্প্রতিক সময়ে জাঙ্গালীয়াসহ বিভিন্ন স্থানের বেশ কিছু মাদকসেবী কোচিং সেন্টারটির পাশে মাদক সেবন শুরু করে। পরবর্তীতে মাদকসেবনকারীরা জোর করে পরিচালক অহিদের কাছ থেকে দু’দফা চাবি নিয়ে কোচিং সেন্টারটির ভিতরে মাদক সেবন করে। এতে বাধা দেওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং কিভাবে কোচিং সেন্টারটি চালায় সেটা দেখে সেওয়ার হুমকীও দেয়। পরবর্তিতে এরই জের ধরে গত ২১ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১০ টায় বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলযোগে কালিরবাজারে যাওয়ার পথে মোবাইল ফোনে মাদকসেবীরা তাকে কোচিং সেন্টারের কাছে ডেকে নিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে অজ্ঞাত কিছু লোকজন নিয়ে লাঠিসোঠাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলাসহ গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালায়। এতে অহিদুল শরীরের বিভিন্ন অংশছাড়্ওা মাথায় গুরুতর জখম হয় । এসময় তার চিৎকারে পথচারীসহ এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা প্রানে মেরে ফেলার হুমকী দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এদিকে কোচিং সেন্টারের শিক্ষক অনিক সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার কিছু সময় আগে একই মাদকসেবীরা কোচিং সেন্টারটির তালা ভেঙ্গে নিজেরা অন্য একটি তালা ঝুলিয়ে দেয়। হামলার পর তাকে উদ্ধার করে স্বজনরা কুমিল্লা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। এঘটনায় অহিদের বড় ভাই তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ৭ নভেম্বর কোতয়ালী মডেল থানায় ৩ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ২/৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে। মামলার আসামীরা হলো,জাঙ্গালীয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে মিজানুর রহমান (৩৮) ,জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে মাছুম (২২) ও ইছমাইল মাষ্টারের ছেলে শামীম (২৫)।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: