বুড়িচংয়ের নিমসার বাজারে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি; অভিযানে ৯ জন গ্রেপ্তার

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার কাঁচাবাজারে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয়কে সামনে রেখে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজির অভিযোগে অবশেষে মাঠে নামে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে মহাসড়কের ওপর প্রকাশ্যে চাঁদা আদায়ের সময় ৯ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে কুমিল্লা ডিবি ও বুড়িচং থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও টাকা আদায়ের ভুয়া রশিদ বই উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিমসার বাজারে দূর-দূরান্ত থেকে ট্রাকভর্তি কাঁচামাল নিয়ে আসা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ‘টোল আদায়’-এর নামে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছিল।
উদ্ধার হওয়া রশিদ বই অনুযায়ী ট্রাকপ্রতি ১ হাজার ৭০০ টাকা, লেগুনা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, ছোট গাড়ি থেকে ১ হাজার টাকা, অটোরিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহন থেকে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা, এছাড়া অনেক সাধারণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকেও ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত আদায়ের প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ, বিগত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘খাস কালেকশন’-এর নামে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে বাজারের কথিত ইজারাদার আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে।
বর্তমানে বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সক্রিয় রয়েছে স্থানীয় বিএনপি ঘনিষ্ঠ একটি গ্রুপ। অভিযোগ রয়েছে, মোকাম ইউনিয়ন বিএনপির উপদেষ্টা এম আর কবিরের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে চাঁদাবাজি পরিচালনা করে আসছিল। এ চক্রে মোকাম ইউনিয়ন বিএনপির আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক আক্তার হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি কবির হোসেন লিটন, যুগ্ম সম্পাদক মো. শাহীন, ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন, ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব আবদুল আলিম, যুবদল নেতা জামির হোসেন, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মির্জা মামুনের নামও স্থানীয়ভাবে আলোচিত।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যেই এই চাঁদাবাজি চললেও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা আদায় হলেও এর কোনো বৈধতা ছিল না।
এ বিষয়ে নিমসার বাজারের ইজারাদার এম আর কবিরকে একাধিক ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, তাই তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, “কুমিল্লায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজি চলবে না। রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, আইনের বাইরে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে আছি।”
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান জানান, নিমসার বাজারে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ৯ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
