ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লার দেবিদ্বারে বখাটে কর্তৃক অপহরণের দেড় মাসেও উদ্ধার হয়নি জোবেদা খাতুন মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্রী সাদিয়া আক্তার। দীর্ঘদিন উত্যক্ত করার পর কলেজে যাওয়ার পথে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে নেয় স্থানীয় বখাটেরা। সাদিয়া আক্তার(১৬)উপজেলা সদরের শান্তি রোড এলাকার জাকির হোসেনের মেয়ে। এ নিয়ে ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে ৫জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করলেও রহস্য জনক কারণে ওই ছাত্রী এখনো উদ্ধার হয়নি। এতে ছাত্রীর বাবা-মাসহ স্বজনরা চরম উৎকন্ঠায় রয়েছে। এদিকে নিজের আদরের কন্যাকে ফিরে পেতে সাদিয়ার বাবা পুলিশ অপহরনকারীদের পরিবার এবং সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

মামলার বিবরণ ও পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, দেবিদ্বার উপজেলা সদরের শান্তি রোডের বাসিন্দা জাকির হোসেনের কন্যা সাদিয়া আক্তার। সে স্থানীয় জোবেদা খাতুন মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্রী। দেখা শোনায় সুন্দরী এ মেয়েকে কলেজে আসা যাওয়ার পথে প্রায়ই উত্যক্ত করতো একদল বখাটে। এক পর্যায়ে উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের নয়ন মোল্লার ছেলে বখাটে নাছের মোল্লা তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু এতে সাড়া দেয়নি সাদিয়া। এ নিয়ে তার পিছু লাগে ওই নাছের মোল্লাসহ কয়েকজন বখাটে। এক পর্যায়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর তাকে তুলে নিয়ে যায় বখাটে চক্র। সময় মতো বাড়ী না ফেরায় তাকে খুঁজে না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরী করে তার পিতা জাকির হোসেন। এ সময় নানা তৎপরতা চালিয়ে তাকে উদ্ধার করতে না পেরে ৯ সেপ্টেম্বর অপহরণ মামলা রেকর্ড করে পুলিশ। এতে বখাটে নাছের মোল্লা, লিটনসহ এজহার নামীয় ৫জন এবং ৩জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়। পরে সাদিয়ার বাবা তার মেয়েকে উদ্ধারে সহযোগিতা করতে বখাটে নাছের মোল্লার পিতার স্মরনাপন্ন হয়। কিন্তু ছেলের কাছ থেকে ওই কলেজ ছাত্রীকে উদ্ধার না করে নানা টালবানা করে এক পর্যায়ে সেও বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে যায়।

এদিকে ঘটনার দেড় মাস অতিবাহিত হলেও ওই কলেজ ছাত্রীকে উদ্ধারে এখন আর কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না পুলিশ। এ নিয়ে চরম উদ্বেগ উৎকন্ঠায় দিনাতিপাত করছে ওই কলেজ ছাত্রীর পরিবার ও স্বজনরা। ভিকটিমের বাবা জাকির হোসেন বলেন, আমার মেয়েকে উদ্ধারে আমি প্রতিনিয়তই পুলিশ এবং অপহরণকারীদের পরিবারসহ এলাকার লোকজনের দ্বারে দ্বারে অসহায় হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি, কিন্তু আমার মেয়ে তো উদ্ধার হচ্ছেনা। আমি যেকোন মুল্যে আমার মেয়েকে ফেরত চাই।

এবিষয়ে দেবিদ্বার থানার ওসি জহিরুল আনোয়ার বলেন, অপহরণ নয়, প্রেমের সুত্র ধরে ভিকটিম সেচ্ছাই ওই ছেলের সাথে চলে গেছে বলে আমরা প্রাথমিক ভাবে জেনেছি। তারপরেও কলেজ ছাত্রীকে উদ্ধারে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত আছে, শিগগিরই তাকে উদ্ধার করে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।