ওমর ফারুকঃ স্ত্রীকে ফাঁসাতে নিজ ঘর ভাংচুর করেছে পাষান্ড স্বামী নজরুল ইসলাম। গত সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকরা ইউপির মঘুয়া পশ্চিম পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। সে ওই গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে মৌকরা ইউপির মাঝিপাড়া গ্রামের মৃত রঙ্গুমিয়ার মেয়ে মাজেদা বেগমের সঙ্গে নজরুল ইসলামের বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকে সুথেই চলছিলো তাদের সংসার। সাহাদাত হোসেন নামে তাদের এক পুত্র সন্তানও রয়েছে। পরে জীবিকার তাগিদে নজরুল কাতারে পাড়ি জমান। ওই সময় শ্বশুরবাড়ী থেকে বিদেশ যাওয়ার জন্য ও বিভিন্ন সময়ে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নেন। নজরুল বিগত কয়েক বছর ধরে স্ত্রী ও সন্তানের কোন খোঁজ খবর নেয়না। কাউকে না জানিয়ে নজরুল বিদেশ থেকে দেশে এসে আত্মগোপনে থাকে।

হঠাৎ করে সোমবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ীতে এসে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বসত ঘর ও রান্না ঘর ভাংচুর করে। এ সময় স্ত্রী ও ছেলে বাধা দিলে তাদেরকে পিটিয়ে আহত করে। মাজেদা বেগম নাঙ্গলকোট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে।

মাজেদা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন নজরুল আমাদের সাথে কোন যোগাযোগ রাখেনি। সোমবার সন্ধ্যায় ও গতকাল মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ করে সে, তার বোন পারভীন বেগম, রহিমা বেগম ও আমার শ্বাশুড়ি রুপিয়া বেগমকে সঙ্গে নিয়ে আমাকে ও আমার ছেলেকে পিটিয়ে আহত করে বসত ও রান্নাঘর ভাংচুর করে আর বলে আমি থানায় গিয়ে অভিযোগ করবো তোরা আমার ঘর ভাংচুর করছত। ঘটনার পর থেকে সে পালতক রয়েছে।

ঘটনাটি অস্বীকার করে শ্বাশুড়ি রুপিয়া বেগম বালেন, আমার ছেলে এ ধরণের কোন ঘটনা করেনি। এ ঘটনার অভিযুক্ত নজরুল ইসলামের মুঠো ফোনে বার বার কল দিও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে গতকাল মঙ্গলবার নাঙ্গলকোট থানার দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আশ্ররাফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।