ডেস্ক রিপোর্টঃ বরুড়ার আড্ডায় স্থানীয় আড্ডা টাওয়ার হাসপাতাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তারের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কমকর্তা নিশাত সুলতানা অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জনের অনুমতিক্রমে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হাসপাতাল বন্ধের আদেশ দিয়েছেন।

গত বারই অক্টোবর শনিবার আড্ডা আমিন বাড়ির ইদু মিয়ার ভাড়াটিয়া মো. বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী রোকেয়া আক্তার সাথি প্রসব বেদনা উঠলে আড্ডা টাওয়ার হাসপাতাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করায়। বারই অক্টোবর রাত ৯ঃ৩০ মিনিটে ডা. প্রীতম রবি দাশ তাকে আল্টাসনোগ্রাফী করে জানান তার পেটের সন্তান মৃত। এ সময় ডা. প্রীতম প্রসূতির স্বজনদের বলেন, পরের দিন সকাল ১০ টার মধ্যে নরমাল প্রসব না হলে সিজার করার কথা বলেন। রবিবার দুপুর বার টার মধ্যে প্রসব না হওয়ায় তিনি সিজার অপারেশন করেন । অপারেশনের দুই ঘন্টা পর প্রসূতির অবস্থা অবনতি দেখে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেন। বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রসূতির স্বজনেরা জানান, অপারেশনের পর মৃত বাচ্চাকে প্রসূতির মায়ের কাছে বুঝিয়ে দেন। সাথী সুস্থ আছে বলে জানান, তবে আমাদের কাউকেই দেখতে দেননি। কিছুক্ষণ পর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার কথা বললে আমাদের সন্দেহ হয়। হাসপাতাল থেকে বের করার পর তার অবস্থা প্রায় মৃত দেখতে পাই। কিন্তু আমরা এই অবস্থা দেখে দ্রুত তাকে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সরেজমিনে আড্ডা টাওয়ার হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে চেয়ারম্যান, এমডি, ডাক্তার কাউকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে অভিযোগ পেয়ে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিশাত সুলতানা অভিযান পরিচালনা করেন, অভিযানে অভিযোক্ত ডাক্তার ও হাসপাতাল এর কোন রকম বৈধ কাগজ পত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় হাসপতাল বন্ধের নির্দেশ দেন।