ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লা বরুড়া উপজেলার ডেউয়াতলী দাখিল মাদ্রাসার জেডিসি পরীক্ষার্থী উম্মে হানি মুক্তার এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিতে পারলনা। কুমিল্লা বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করেও জেডিসি পরীক্ষা দিতে পারেনি মুক্তা ।

নানা টাল বাহানা করে মাদ্রাসা কতৃপক্ষ মুক্তা আক্তারের ফরম পূরণের সময় পার করে। তার বাবা চাঁন মিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম, মাদ্রাসা বোর্ড, মাদ্রাসা সুপার ও বিভিন্ন জনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে মেয়েকে বসাতে পারেননি জেডিসি পরীক্ষার টেবিলে। পরিক্ষা দিতে না পেরে হতাশায় ভেঙ্গে পরেছে শিক্ষার্থী মুক্তা।

চাঁন মিয়া জানান, তিনি প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সদস্য। মেয়ে উম্মে হানি মুক্তার গত ২৪ জুলাই পরীক্ষার ফি বাবদ ৪শ টাকা নিয়ে মাদ্রাসা সুপার কবির হোসেনের নিকট গেলে ৮শ টাকার নিচে ফরম পূরণ হবেনা বলে জানান। বোর্ডের নির্ধারিত ফি ২৫০ টাকা থাকলেও মাদ্রাসা সুপার ৮শ টাকার নিচে কারো ফরম পূরণ করেননি। মাদ্রাসা সুপার পরীক্ষার্থীকে মাদ্রাসা ছুটির পর দেখা করতে বলেন। দেখা করতে গেলে তাকে কুপ্রস্তাব দেন। তাতে রাজী না হওয়াতে তাকে অফিস কক্ষ থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন এবং বলেন তোমার ফরম পূরণ হবেনা এবং আর মাদ্রাসায় আসবেনা। মুক্তা আক্তার বিষয়টি তার অভিভাবককে জানায়। তার অভিভাবক ঐদিনই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

গত ২৪ আগষ্ট অভিযোগটির তদন্ত করেন উপজেলা কৃষি উপ-সহকারি মো. আলী। এ বিষয়ে গত ২৬ আগষ্ট শুনানী হয়। পরবর্তীতে গত ২৬ আগষ্ট, ১২ সেপ্টেম্বর ও ৭ অক্টোবর সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করা হয় এবং পরে চাঁন মিয়াকে আশ্বস্ত করা হয় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এ আশ্বাসের পর বারবার উপজেলা কমপ্লেক্সে যাওয়ার পরও ওই কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোন প্রকার সিদ্ধান্ত না নেয়ায় মাদ্রাসা সুপারের উম্মে হানি মুক্তার ২০১৯ সালের জে ডি সি পরীক্ষার ফরম পুরণ করেননি। যার ফলে উম্মে হানি মুক্তার পরিক্ষা দিতে পারেনি।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম জানান,তদন্তে দেওয়া হয়েছে তদন্তকারী কমকর্তা রিপোর্ট দিলেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।