মো. জাকির হোসেনঃ কুমিল্লা নগরীর ১নং ওয়ার্ডের ভাটপাড়া (পূর্বপাড়া) এলাকার মৃত আলী নেওয়াজ মিস্ত্রী এর ছেলে কুমিল্লা ইর্ষ্টান ইয়াকুব প্লাজার কাপড় দোকানের বিক্রয়কর্মী মোঃ তুহিন (৩০) হত্যা মামলার মূল আসামী বাবুল ওরফে চোরা বাবুলকে গ্রেফতার করেছে কুমিল্লা ডিবি পুলিশের একটি টিম। শুক্রবার রাতে আসামী বাবুলকে গ্রেফতারের পর গতকাল শনিবার কুমিল্লা আদালতে হাজির করলে সে তুহিন হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

জানা যায়, নিহত তুহিন ও আসামী বাবুল একই এলাকার বাসিন্দা, তুহিনের বড় ভাই মোঃ শাহেনেওয়াজ এর মেয়েকে আসামী বাবুল বিভিন্ন সময় উত্যক্ত করে আসতো। এ বিষয়ে তুহিনের বড় ভাই কুমিল্লা আদালতে মামলা দায়ের করলে আসামী বাবুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সম্প্রতি আসামী বাবুল জেল থেকে বের হয়ে আবারো উত্যক্ত করে আসছিল। এদিকে তুহিনের ভাতিজির অন্যত্র বিবাহ নির্ধারণ হয়। বিয়ের দিন আসামী বাবুল তুহিনের ভাতিজিকে বিয়ে বাড়ী থেকে তুলে নিতে আসে। এসময় তুহিনের বাঁধার মুখে আসামী বাবুল ব্যার্থ হয়ে ফিরে যায়। বিয়ের ২০ দিন পর গত মাসের ৩১ তারিখ রোববার রাত সোয়া ৮ টায় তুহিন বাড়ী ফেরার পথে আসামী বাবুল তুহিনের উপর সংঘবদ্ধ হামলা চালায়। এসময় আসামী বাবুল তুহিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তুহিনের ঘাড়ে, মাথায় ও পেটে মারাত্মক জখম করে। পরে স্থানীয়রা তুহিনকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তুহিনের অবস্থা আশংখ্যাজনক দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। হামলার এক দিন পর ১ এপ্রিল সোমবার রাত পৌনে ১২ টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তুহিন মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় তুহিনের বড় ভাই শাহেনেওয়াজ বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করে। মামলার পর থেকে আসামী বাবুল গা-ডাকা দেয়। কোতয়ালী থানা পুলিশ ঘটনার ১২ দিনেও আসামীদের গ্রেফতার করতে না পাড়ায় বৃহস্পতিবার মামলাটি ডিবি পুলিশের নিকট হস্থান্তর করা হয়।

কুমিল্লা ডিবি পুলিশের ইনচার্জ নাসির মৃধা জানান, মামলাটি হাতে পাওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে ডিবি পুলিশের এস আই নন্দন সরকার ও এস কামাল হোসেনের সমন্বয়ে একটি টিম শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ টায় জেলার বুড়িচং উপজেলার নিমসার এলাকা থেকে মুল আসামী মোঃ বাবুল ওরফে চোরা বাবুল (২৮)’কে গ্রেফতার করে। গতকাল আটককৃত আসামী বাবুলকে কুমিল্লা আদালতে হাজির করলে আসামী বাবুল তুহিন হত্যার বিষয়ে জড়িত রয়েছে মর্মে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। পরে আসামী বাবুলকে কুমিল্লা জেলখানায় প্রেরণ করেন।

নিহত তুহিনের বড় ভাই শাহেনেওয়াজের সাথে কথা বলে জানা যায়, নিহত তুহিন ৫ ভাই ৩ বোনের মধ্যে সকলের ছোট ছিল। নিহত তুহিনের একটি মেয়ে আছে, সে বর্তমানে ২য় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। তিনি বলেন, আমি আমার ভাইকে, ছোট্ট শিশুটি তাঁর বাবাবে আর ফিরে পাবেনা। তবে খুনিদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় এই দাবী প্রশাসনের নিকট করছি।