ডেস্ক রিপোর্টঃ অবৈধ অস্ত্র ছড়িয়ে পড়ছে কুমিল্লাসহ দেশের আনাচে-কানাচে। যেন হাত বাড়ালেই মিলছে আগ্নেয়াস্ত্র। সন্ত্রাসী হামলা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও জমি দখল থেকে শুরু করে তুচ্ছ ঘটনায় ব্যবহূত হচ্ছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের বেশিরভাগ আসছে সীমান্ত দিয়ে, আর তা ছোট-বড় সব সন্ত্রাসীদের হাতে সহজেই চলে যাচ্ছে। পাড়া-মহল্লার উঠতি মাস্তানরাই শুধু নয়, ছিঁচকে ছিনতাইকারীরাও ব্যবহার করছে আগ্নেয়াস্ত্র। তবে এসব অস্ত্র কারা, কীভাবে, কোথা থেকে আনছে, আর কারাই বা এর ক্রেতা— এসব বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য নেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। সম্প্রতি কুমিল্লা থেকে উদ্ধার হয়েছে বেশকিছু নতুন আগ্নেয়াস্ত্র। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে কুমিল্লার একটি হাউজিংয়ের ভবনের ফ্ল্যাট থেকে পলিথিনে মোড়ানো একেবারে নতুন বিদেশি অত্যাধুনিক দুটি শর্টগান ও একটি পিস্তলসহ গুলি-কার্তুজ উদ্ধারের পর অস্ত্রের চালান ও কেনা-বেচার বিষয়টি ওপেন-সিক্রেট হয়ে পড়ে। তারা অস্ত্রগুলো বিক্রয়ের জন্য মজুত করে রেখেছিল বলে ডিবি পুলিশ জানিয়েছে। এতে শহরজুড়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠাসহ আতঙ্ক বেড়েছে।

>>আরো পড়ুনঃ  কুমিল্লা মেডিক্যালে স্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তোলপাড়

জানা যায়, কুমিল্লা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের একটি দল গত ২৪ এপ্রিল রাতে শহরতলির চম্পকনগর-সাতোরা এলাকার স্নেহনীড় হাউজিংয়ের ফ্রেন্ডস টাওয়ারের সপ্তমতলার ডি ইউনিটের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। ডিবি জানায়, ওই ফ্ল্যাটে অস্ত্র কেনা-বেচা হয়ে থাকে- এমন তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়। এসময় ওই ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে তারা বিদেশি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিদেশি দুটি শর্টগান, একটি বিদেশি ৭.৬৫ বোরের পিস্তল, ১০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৯০ রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজ, পিস্তলের দুটি ম্যাগজিন। এসব অস্ত্র ওই ফ্ল্যাটের ড্রইংরুমের একটি বক্স খাটের ভেতরে প্লাস্টিকের বড় ব্যাগে পলিথিন দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ছিল। চারটি কার্টন ভর্তি অবস্থায় পাওয়া যায় গুলি ও কার্তুজ। পরদিন ডিবির এসআই ইকতিয়ারউদ্দিন বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হচ্ছে- ওই ফ্ল্যাটের মালিক ও জেলার বুড়িচং উপজেলা সদরের ব্যাপারি বাড়ির নিয়ত আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম ওরফে রমজান (৪০) এবং তার বন্ধু ওমর ফারুক (৩৮) ও সাইফুল (৩৫)। কিন্তু পুলিশ এখনো তাদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে জেলা ডিবির ওসি নাসিরউদ্দিন মৃধা জানান, আসামিরা হলে অবৈধ অস্ত্রের চালান ও ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়ে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

>>আরো পড়ুনঃ  কুমিল্লার কামার শিল্পীদের ব্যস্ত সময়

এদিকে র্যাব-১১ সিপিসি-২ কুমিল্লা ক্যাম্পের একটি দল গত ২৮ এপ্রিল ভোররাতে জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বেরলা গ্রামের আবদুল কাদেরের বসতঘর থেকে নতুন একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন ও পাঁচ রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করে। এসময় আবদুল কাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম থানায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। জেলা ও ডিবি পুলিশের অভিযানে গত ২৮ মার্চ একটি শর্টগান ও সাতটি কার্তুজ, ৩০ মার্চ একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন ও দুই রাউন্ড গুলি, ৪ এপ্রিল একটি পাইপগান এবং ২১ এপ্রিল দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এসব অভিযানে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, ‘ছোট অস্ত্রের ক্রেতা বেশি। পেশাদার ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, খুনি ছাড়াও রাজনৈতিক দলের অনেক অসাধু নেতা এসব অস্ত্র সংগ্রহ করে থাকেন। অনেকেই আধিপত্য বিস্তারে এসব ছোট অস্ত্র রাখছে। এসব অবৈধ ছোট অস্ত্রের কিছু উদ্ধার হলেও বেশির ভাগই চলে যাচ্ছে নানা উপায়ে অপরাধীদের হাতে। তাদের মতে এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে চিরুনি অভিযান প্রয়োজন।’

>>আরো পড়ুনঃ  কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক, ফোর লেনের কাজ শেষ ২০২০ সালে

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিল্লা শাখার সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, ‘বিভিন্ন সীমান্তপথে আসা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। প্রতিটি এলাকায় বিশেষ অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করি।’ র্যাব-১১ কুমিল্লা ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার এএসপি প্রণব কুমার বলেন, ‘বিভিন্ন অপরাধের উত্স উদঘাটন, অপরাধীদের গ্রেফতার এবং বিশেষ করে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।’

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ‘অবৈধ অস্ত্রধারী এবং অস্ত্র কেনা-বেচার উত্সসহ সংঘবদ্ধ চক্রকে গ্রেফতারে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। এছাড়া অবৈধ ছোট অস্ত্রের সরবরাহ এবং ব্যবহারকারীদের ধরতে সীমান্তবর্তী এ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযানের সক্রিয় চিন্তাও রয়েছে।’

সূত্রঃ ইত্তেফাক

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ