কুমিল্লায় প্লাবন ভূমিতে মাছ চাষ

ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার প্লাবন ভূমিতে প্রথম মাছ চাষ শুরু হয়; যা সারা দেশের মধ্যে মডেল। প্লাবন ভূমিতে মাছ চাষ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। দাউদকান্দিতে ধান খেতে বর্ষা মৌসুমে মাছ ও শুকনো মৌসুমে ধান চাষ করা হয়। এ ছাড়া কুমিল্লার মেঘনা, হোমনা, মুরাদনগর, তিতাস উপজেলায়ও প্লাবন ভূমিতে মাছ চাষ হচ্ছে।

১৯৮৬ সালে দাউদকান্দিতে প্রথম প্লাবন ভূমিতে মাছ চাষ শুরু করেন ধানুয়াখোলা গ্রামের সুনীল কুমার রায়। তার দেখাদেখি অন্যরাও এগিয়ে আসেন। এখন দাউদকান্দির পাশের উপজেলাগুলোর প্লাবন ভূমিতেও মাছের চাষ হচ্ছে। জেলে-কৃষকের পাশাপাশি এখন শিক্ষিত তরুণরাও মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। দাউদকান্দির প্লাবন ভূমি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক-লাগোয়া দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ, আদমপুর, পুটিয়া, রায়পুরসহ বিভিন্ন গ্রামে চারদিকে মাছ চাষের উৎসব। জাল টেনে পাড়ে আনার পর নানা রঙের মাছের রুপালি ঝিলিক। সরপুঁটি, তেলাপিয়া, রুই, মৃগেল, সিলভার কার্প ও পাঙ্গাশ মাছ লাফাচ্ছে। মাছগুলো তুলে এনে চালার নিচে রাখা হচ্ছে। পাইকারদের মাছ মেপে দিতে গিয়ে চলছে হাঁকডাক। শ্রমিকরা মাছ মেপে দেওয়ার পর তা বরফ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। মহাসড়কের পাশে সারি করে দাঁড়ানো পিকআপ ভ্যান। ভ্যানগুলো মাছ নিয়ে ছুটছে কুমিল্লার বিভিন্ন বাজারসহ ঢাকা ও চট্টগ্রামে।

এ দৃশ্য বছরের আট মাস দেখা যায় দাউদকান্দি, মুরাদনগর, হোমনা, তিতাস উপজেলার শতাধিক গ্রামে। এসব গ্রামের লাখো পরিবার চলছে মাছ চাষের আয় দিয়ে। স্থানীয়রা জানান, এসব এলাকায় একসময় খাল-বিলের মাছই যথেষ্ট ছিল। মানুষ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে চাহিদা, শুরু হলো মাছ চাষ। একসময় জেলে সম্প্রদায় ছাড়া লেখাপড়া জানা কেউ মাছ চাষ করবে তা ছিল চিন্তার বাইরে। জলাবদ্ধতার কারণে এ এলাকায় এক ফসলের বেশি হয় না। এ জলাবদ্ধতা কাজে লাগিয়ে শুরু হয় মাছ চাষ। শিক্ষিত তরুণ, কৃষক ও জেলেদের মুখে ছড়িয়ে পড়েছে রুপালি মাছের হাসি।

দাউদকান্দির ‘আপোষী মত্স্য প্রকল্প’-এর পরিচালক মতিন সৈকত বলেন, ‘বছরের আট-নয় মাস জমিগুলো খালি পড়ে থাকত। এ সময় সমিতির মাধ্যমে জমি বর্গা নিয়ে মাছ চাষ করা হয়। মাছ চাষ হওয়ায় এলাকায় বেকারত্ব কমেছে। দাউদকান্দির প্লাবন ভূমিতে মাছ চাষ এখন বাংলাদেশের মডেল। এখানে একটি হিমাগার স্থাপন করা হলে মাছ সংরক্ষণ করা যেত। এতে মাছ চাষিরা ভালো মূল্য পেতেন।’

উদ্যোক্তাদের আরেকজন ‘হিমালয় প্রকল্প’-এর পরিচালক আলী আহমেদ জানান, এখানে ভরা মৌসুমে প্রতিদিন প্রায় ৩৩ হাজার মণ মাছ বিক্রির জন্য তোলা হয়। এতে এলাকার আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বেকারত্বও কমছে। তিনি বলেন, সহজ শর্তে ব্যাংক থেকে ঋণ পেলে মাছ চাষিরা ব্যবসার পরিমাণ বাড়াতে পারতেন।

দাউদকান্দি উপজেলা সহকারী মত্স্য কর্মকর্তা নাজমা আক্তার জানান, দেশের মধ্যে দাউদকান্দিতে প্রথম প্লাবন ভূমিতে মাছ চাষ শুরু হয়। এখানের সাফল্য দেখে সারা দেশে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে। দাউদকান্দিতে ৩ হাজার হেক্টর প্লাবন ভূমিতে মাছ চাষ হয়। তিনি বলেন, এ উপজেলার শিক্ষিত তরুণরাও মাছ চাষে সম্পৃক্ত হচ্ছে। এতে বেকারত্ব দূরের সঙ্গে মাছের উৎপাদন বাড়ছে। মাছের চাষ ও রোগ প্রতিরোধে মত্স্য বিভাগ চাষিদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছে।

সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন