ডেস্ক রিপোর্টঃ প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই কুমিল্লার দেবিদ্বারে সপ্তাহব্যাপী ‘বিশ্ব পাগল মেলা’ চলছে। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ওই পাগল মেলা চলবে আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত। দেবিদ্বার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ভৈষরকোট গ্রামের নুরুল ইসলাম ওরফে সুজন পাগল ( সুজন ভাণ্ডারী) নামে এক ব্যক্তি আয়োজন করেছেন এ পাগল মেলার। মেলায় গাঁজা সেবন ও জুয়ার মজমা চলছে অবাধে। দুই শতাধিক নারী-পুরুষ পাগল নামধারী সন্যাসী কেউবা অনেকটা বস্ত্রহীন অবস্থায় মেলায় অবস্থান করছেন।

পুরো মেলা ঘুরে দেখা যায়, বিশাল আলিশান গেটের ভেতরে টিন ও কাঠ দিয়ে বানানো ছামিয়ানার মত প্যান্ডেলের ভেতরে চলছে ওয়াজ-নসিহত। প্যান্ডেলের পশ্চিমাংশে রয়েছে ছোট ছোট তাবু। তাবুর বেশির ভাগই বানানো লাল-সালু কাপড় দিয়ে। বড় বড় মোমবাতি ও আগর বাতি জ্বালিয়ে তাবুর ভেতরে নারী-পুরুষ ভক্তদের চলছে গানের জলসা। ঢোলের তালে তালে গান বাজনা আর মাদকের ঘ্রাণে পুরো এলাকাই যেন পরিণত হয়েছে মাদকের খোলা হাট-বাজারে। প্যান্ডেলের পূর্বপাশে দুইশ গজ দূরে একটি বাঁশঝাড়ের ভেতরের অবস্থা আরও ভয়াবহ। এখানে রাত যত গভীর হয় ততই মাদকের হাট জমে ওঠে। নারী-পুরুষ একত্রে মিলে চলে মাদক সেবন আর গান-বাজনা। এ যেন সত্যিই পাগলের হাট! মাদক সেবন ও জুয়ায় যোগ দিচ্ছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা যুবকরাও। তারা মনে করেন মেলায় এসেছেন আর গাঁজা খাবেন না তা কি করে হয়? সব মিলিয়ে এ যেনো মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের মহামিলন মেলা।

এখানে বাহির থেকে আসা সন্দেহভাজন কাউকে দেখা মাত্রই নিরাপত্তায় থাকা স্বেচ্ছাসেবীর বাঁশির ফুঁতে সবাই সতর্ক হয়ে যান। সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে চারদিক থেকে আসা বাঁশির শব্দে স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছিল এটি মাদক সেবন ও জুয়াড়িদের জন্য একটি সতর্কতামূলক বার্তা। এ সময় সাংবাদিকদের দেখে মাদক সেবনকারীরা তাদের ব্যবহৃত সরঞ্জামও লুকাতে চেষ্টা করেন। সরঞ্জাম লুকাতে পারলেও মাদকের ঘ্রাণ লুকাতে না পারায় স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে এখানে নারী-পুরুষ প্রায় সকলেই মাদক সেবনরত অবস্থায় ছিলেন।

মেলার আয়োজক নুরুল ইসলাম ওরফে সুজন পাগল জানান, নবীর আশেকানদেরকে এ বিশ্ব পাগলের মেলায় একত্র করা হয়। এ মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নবীর আশেক ও পাগল ভক্তরা জড়ো হয় নবীর সহবত পাওয়ার জন্য।

তিনি আরও জানান, তিনি নিজেকেও নবীর পাগল ভাবেন অন্য পাগলদের নিয়ে। তাই গত চার বছর ধরে তার গ্রামে পাগলের মেলার আয়োজন করছেন তিনি।

ইসলামী শরিয়তে এ ব্যাপারে কি নির্দেশনা রয়েছে এমন প্রশ্নে দেবিদ্বার ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আরবি বিভাগের অধ্যাপক আবুল বাশার মিরাজী জানান, কোরআন-হাদিসের কোথাও এমন পাগলের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। রাসুলের প্রেমে পাগল বলতে এসব ছন্নছাড়া মাদকসেবী, যাদের পরনে কাপড় নেই, গোসল নেই, পাক-পবিত্রতা নেই এমন পাগলদের বুঝানো হয়নি। তারা বিশ্ব ব্যাপী ইসলামকে বিকৃত করছেন। ইসলামে এসবের ন্যূনতম স্থানও নেই।

দেবিদ্বার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আনোয়ার জানান, পাগল মেলা অয়োজনের জন্য অনুমতি দেয়া হয়নি। যে কোনো সময় পাগলের মেলায় অভিযান চালানো হবে। মাদকের সঙ্গে যাদেরকে পাওয়া যাবে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

এ ব্যাপারে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান জানান, বিশ্ব পাগলের মেলার খবর সাংবাদিকদের মাধ্যমেই প্রথম জানলাম। এ মেলার অনুমতি নেই। বিশ্ব পাগল মেলার নামে মাদক ও জুয়ার আয়োজকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।