ডেস্ক রিপোর্টঃ মেয়েকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করে কুমিল্লায় এক অটোরিকশাচালক পিতাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নগরীর দৌলতপুর এলাকায় বসবাসকারী আমজাদ হোসেন নামে ওই অটোচালককে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে ঘটনাটি পুলিশের নজরে এলে অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে তারা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অপহরণকারী দলের এক সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

রবিবার কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তানভীর সালেহীন ইমন এক প্রেসব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

তানভীর সালেহীন ইমন বলেন, শনিবার সকালে কুমিল্লা কোতয়ালি থানার দৌলতপুর এলাকার অটোরিকশার চালক আজাদ হোসেনকে চিশতিয়া জুট মিলের সামনে থেকে চারজনের একটি দল অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আজাদ হোসেনের মেয়ের মোবাইল ফোনে অপহরণকারীরা কল দিয়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ নিয়ে নগরীর নেউরা এলাকায় যাওয়ার জন্য বলে।

তিনি জানান, আজাদের মেয়ে রাত পৌনে ৯টায় কুমিল্লা কোতয়ালি থানায় এসে বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশের দুটি টিম পৃথক অভিযান চালিয়ে নগরীর নেউড়া ইকো পার্ক এলাকার একটি ছয় তলা বিল্ডিংয়ের নিচ তলা থেকে শেকল বাঁধা আজাদ হোসেনকে উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারী দলের তিন সদস্য পালিয়ে গেলেও পুলিশ জামাল মিয়া নামে এক অপহরণকারীকে আটক করে।

উদ্ধারের পর অপহৃত আজাদ হোসেন পুলিশকে জানায়, মূলত তাকে জিম্মি করে তার মেয়েকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে অপহরণকারী এই ফাঁদ সৃষ্টি করে। অপহরণকারীরা বিষয়টি নিয়ে পারস্পরিক আলোচনা করতে তিনি শুনেছেন।

আটক জামাল মিয়া জেলার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের বারেশ্বর গ্রামে বাচ্চু মিয়ার ছেলে। সে নগরীর নেউড়া এলাকার জহিরুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়ায় থাকে।

এদিকে এই ঘটনায় চারজনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। সেই মামলায় আটক জামাল মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।