মোঃ জহিরুল হক বাবুঃ ৪ মাস পূর্বে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয় তানজিনার, মা হারা তানজিনা খুজে পেয়েছিল নতুন এক পরিবার, পেয়েছিলো নতুন মা-বাবা, ভেবে ছিলো নতুন সংসারে গুছিয়ে নিবে সবকিছু। সবার কপালে কি সুখ থাকে? হাতের মেহেদীর রং মোছার আগেই লাশ হলো মোসাম্মৎ তানজিনা আক্তার (১৯)। কিটনাশক পানে মৃত্যু হয়েছে বলে জানান শ্বশুর বাড়ীর লোকজন, তবে তানজিনার বাবার দাবী পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে মেয়েকে।

ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের রামপাল গ্রামে। শনিবার রাতে দেবপুর ফাঁড়ী পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

নিহতের পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জেলার মোকাম ইউনিয়নের মিথলমা গ্রামের মোঃ সেলিম মিয়ার মেয়ে তানজিনা আক্তারকে পার্শ্ববর্তী ময়নামতি ইউনিয়নের রামপাল, ফরিরজপুর এলাকায় শাহ আলমের ছেলে মোঃ শরীফের সাথে বিয়ে দেয়। বিয়ের পূর্বে শরীফ দোকনদারী করলেও বিয়ের এক মাস পর জানায় সে বিদেশ যাবে। বিদেশের টাকার জন্য তানজিনাকে চাপ দেয়। তানজিনা বাবার কাছে টাকাও চায়, কিন্তু তানজিনার বাবা গরীব বিধায় বিদেশের সম্পূর্ন টাকা দিতে অপরাগত প্রকাশ করে। এ নিয়ে তানজিনার স্বামী তার উপর নির্যাতন চালায়। গত ২২ অক্টোবর তানজিনার স্বামী টাকার জন্য তানজিনাকে বাবার বাড়ীতে পাঠায়। ৪ দিন বাবার বাড়ীতে থেকে শনিবার সকালে তানজিনা টাকা ছাড়া স্বামীর বাড়ীতে আসে। স্বামীর বাড়ীতে আসলে স্বামী ও তাঁর পরিবারের লোকজন তাঁকে গালমন্দ ও মারধর করে।

স্বামীর পরিবারের লোলকজন জানান, তানজিনা বাবার বাড়ী থেকে এসে রুমে গিয়ে কিটনাশক পান করে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তানজিনাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে প্রেরণ করে। পরিবারের সদস্যরা তানজিনাকে ঢাকা না নিয়ে দাউদকান্দি উপজেলার রায়পর বাস স্ট্যান্ড এলকার হাবিব হোমিও হল নামক একটি হোমিওপেথিক ক্লিনিকে নিয়ে যায়। ক্লিনিকের ডাক্তার মোঃ রেজাউল করিম তানজিনাকে বিভিন্ন ঔষধ দিয়ে বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়। বিকেলে তানজিনাকে নিয়ে বাড়ীতে আসে শ্বশুর বাড়ীর লোকজন। পরে তার সাড়ে ৭ টায় তানজিনার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ীর এস আই আবুল খায়ের ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। তানজিনার বাবা সেলিম মিয়া বলেন, আমার মেয়েকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।