মোঃ জহিরুল হক বাবুঃ জাতীয় পাটির চট্রগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সমন্বয় কমিটির কুমিল্লায় আগমন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা ও কুমিল্লা দক্ষিন জেলা জাতীয় পাটির সাবেক সাধারন সম্পাদক ও কেন্দ্রিয় ভাইস-চেয়ারম্যান এইচ এন শফিকুর রহমান পদত্যাগ পত্রের নামে একটি রাজনৈতিক বৃত্তান্তে বিভিন্ন মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ জাতীয় পাটির দলীয় কার্যালয়ে এক নিন্দা ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুমিল্লা দক্ষিন জেলা জাতীয় পাটির আয়োজনে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিন জেলা জাতীয় পাটির ১নং যুগ্ম সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুল কবির মোহন ।

কুমিল্লা মহানগর জাতীয় পাটির আহবায়ক সালামত আলী খান বাচ্চুর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা মহানগর জাতীয় পাটির সদস্য সচিব কাজী নাজমুল ছোট্র, যুগ্ম-আহবায়ক মাহবুবুল আলম সেলিম, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জাতীয় পাটির আহবায়ক রফিকুল ইসলাম, সদস্য সচিব এরশাদ উল্লাহ, কুমিল্লা দক্ষিন জেলা জাতীয় যুব সংহতির যুগ্ম আহবায়ক নজরুল ইসলাম বাবর, কুমিল্লা দক্ষিন জেলা জাতীয় ছাত্র সমাজের সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, মনোহরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পাটির সভাপতি আবু সাইয়িদ চৌধুরী, বি-পাড়া উপজেলা জাতীয় পাটির সভাপতি সামছুল ইসলাম মালু, সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, বুড়িচং উপজেলা সভাপতি জসিম উদ্দিন মাষ্টার, লাকসাম উপজেলা সভাপতি ড. গোলাম মোস্তফা।

প্রতিবাদ সভায় বক্তরা বলেন, কিছুদিন আগে কুমিল্লার একটি স্থানীয় সংবাদপত্রে ও কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে কুমিল্লা দক্ষিন জেলা জাতীয় পাটির সাবেক সাধারন সম্পাদক ও কেন্দ্রিয় ভাইস-চেয়ারম্যান এইচ এন শফিকুর রহমান পদত্যাগ পত্রের নামে একটি রাজনৈতিক বৃত্তান্ত প্রকাশ করে। যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

এইচ এন শফিকুর রহমান কুমিল্লা দক্ষিন জেলা জাতীয় পাটি থেকে পদত্যাগ পত্রের নামে যে রাজনৈতিক বৃত্তান্ত প্রকাশ করে, তাতে তিনি বলেছে যে, তিনি কোটি কোটি টাকা খরচ করে জাতীয় পাটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে নিয়ে কুমিল্লা টাউন হলে স্মরনকালের বিশাল জনসভার আয়োজন করেছেন। আপনারা জানেন কুমিল্লা টাউন হলে অডিটোরিয়ামে সভা করতে কোটি কোটি টাকা খরচ হয় কিনা, আর অডিটোরিয়ামে কি স্মরনকালের বিশাল জনসভা হয় কিনা। এ রকম তিনি অনেক বিশাল আজগুবি কর্মসূচি পালনের কথা উল্লেখ করেন। একই ভাবে তিনি নাকি জাতীয় পাটি নেতা ওবায়দুল কবির মোহন, ছালামত আলী খান বাচ্চু, তাজুল রইসলামসহ অনেক নেতাকে তিনি জাতীয় পাটিতে যোগদান করিয়েছেন অথচ তাহারা প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে জাতীয় পাটি করে আসছেন। শফিকুর রহমান এরকম অনেক আজগুবি ও সম্পূন্ন ভূয়া তথ্য দিয়ে একটি রাজনৈতিক জীবন বৃত্তান্ত প্রকাশ করেছেন, যা জাতীয় পাটির নেতাকর্মীরা বিব্রত হন। আমরা আশা করি শফিকুর রহমানের কাল্পনিক ও বানোয়াট তথ্যে জাতীয় পাটির নেতা কর্মী ও সমর্থকরা কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। মনে প্রানে বিশ্বাসে জামায়াত আর গা বাচাঁনোর জন্য জাতীয় পাটির নাম ব্যবহার করে পাটিকে ধ্বংশ করতে আমরা দিবনা। গ্রাহকের আমানতের হাজার হাজার কোটি টাকা আতœসাৎকারী ভন্ড ও প্রতারক শফিকে জাতীয় পাটি থেকে বহিষ্কার করার দাবী জানাচ্ছি।

বক্তরা আরো বলেন, তৎকালীন জামায়াতের রুকন এইচ এন শফিকুর রহমান অর্থ আতœসাৎতের অভিযোগে ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকুরিচ্যুত আইসিএল প্রতিষ্ঠান করে কুমিল্লা, চৌদ্দগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার গ্রাহককে নিঃস্ব করে হাজার হাজার কোটি টাকা আতœসাৎ করে।

তৎকালীন বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের পতন হলে বর্তমান মহাজোট সরকারের বিভিন্ন কাজের সমালোচনাসহ সরকার বিরোধী কার্যকলাপে সরাসরি জরিত থেকে বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করে। বিএনপি জামায়াত জোটের এই জামায়াত নেতা জ্বালাও পোড়াসহ বিভিন্ন নাশকতার কারনে চৌদ্দগ্রামসহ বিভিন্ন থানায় তাহার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। এ মামলা ও তাহার প্রতিষ্ঠানের অর্থ আতœসাৎতের ফলে চরম সংকটে পড়লে তা থেকে বাচঁতে জাতীয় পাটির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেনের মাধ্যমে জাতীয় পাটিতে যোগদান করেন। জাতীয় পাটিতে যোগদান করে সে পূর্বের ন্যায় জামায়াতের স্বার্থে কাজ করে এবং জাতীয় পাটিতে তাহার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের দিয়ে পরিচালনা করে। এতে জাতীয় পাটির স্থানীয় ত্যাগী নেতাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তাহার সাথে দুরত্ব সৃষ্টি হয়। ফলে শফিকুর রহমান আইসিএল এর কর্মচারী ও তাহার অনুসারী জামায়াত শিবিরের লোকদের জাতীয় পাটিতে পূর্নবাসন করে। যার জন্য কুমিল্লার এক সময়ের জাতীয় পাটির দূর্গ ভেঙ্গ যায়। দলের অনেক ত্যাগী ও দূর্দিনের নেতা কর্মীরা অন্য দলে যোগদান করেন। শফিকুর রহমানের একতরফা কর্মকার্ন্ডের কারনে জেলা জাতীয় পাটির সভাপতি সাবেক এমপি অধ্যাপক নূরুল ইসলাম মিলনের সাথে বিরোধ হলে জেলা জাতীয় পাটির সকল কর্মকান্ড চরমভাবে ব্যহত হয়।

বক্তরা বলেন,শফিকুর রহমানের ভূয়া রাজনৈতিক জীবন বৃত্তান্তের মাধ্যমে মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। কুমিল্লা দক্ষিন জেলা জাতীয় পাটি থেকে শফিকুর রহমান পদত্যাগ করায় কুমিল্লা জেলার জাতীয় পাটির সকল নেতা কর্মীরা আজ আনন্দিত । উক্ত প্রতিবাদ সভা শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে।