ডাক্তাররা প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ত থাকায় ভেঙে পড়েছে কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার চিকিৎসা সেবা।

সরকারি বিধি অনুসারে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে আড়াই পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগে ডাক্তারদের অবস্থান করে রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশনা থাকলেও দেবিদ্বার ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ক্ষেত্রে রয়েছে ভিন্ন নিয়ম। তাদের তৈরি করা মনগড়া নিজস্ব নিয়মেই চলছে ওই হাসপাতালটি।

এ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমিটির একাধিক সদস্য সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে সত্যতা পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বিগত তিন বছর ধরে ভিন্ন আইনে চলে আসা এ উপজেলার স্বাস্থ্য সেবার এখন বেহাল দশা। সকাল সাড়ে ১০টার আগে প্রাইভেট প্র্যাকটিস ছেড়ে কর্মস্থলে আসেন না অধিকাংশ ডাক্তার। তিন বছর আগে ওই হাসপাতালে যোগদান করা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কর্মস্থলে রাত যাপন না করে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া পার্শ্ববর্তী চান্দিনা উপজেলা সদরে অবস্থান করে প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ত থাকেন।

ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্রগুলোতে মেডিকেল অফিসার থাকলেও তারা অধিকাংশ সময় উপজেলা সদরেই প্রইিভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ত থাকেন। এসব অনিয়মের কারণে সেখানকার রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কুমিল্লা জেলার বৃহৎ উপজেলা দেবিদ্বার। একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউপির এ উপজেলায় জনসংখ্যা প্রায় ৬ লাখেরও বেশি। উপজেলা সদরের ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে দেবিদ্বার ছাড়াও পার্শ্ববর্তী মুরাদনগর, নবীনগর ও ব্রাহ্মণপাড়ার অনেক লোক প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু ওই হাসপাতালেরই স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহাম্মদ কবীর পার্শ্ববর্তী চান্দিনা উপজেলা সদরে সকাল-বিকেল- রাতে প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ত থাকেন। ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দেবিদ্বারে যোগদান করেছেন ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি।

দেবিদ্বার উপজেলা সদরের ওই ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিনই প্রায় শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। শয্যা না পেয়ে অনেকেই ফ্লোরে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন। এছাড়াও বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৬ শতাধিক লোক চিকিৎসা নিতে আসেন। গত বুধবার দুপুরে ওই হাসপাতালে নারী ও শিশুসহ ৭৮ জন ভর্তি ছিল। দীর্ঘ দিন ধরে হাসপাতালের শীর্ষ কর্মকর্তা ছাড়াও ওই উপজেলা হাসপাতাল এবং ইউপি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত মেডিকেল অফিসাররাও নিয়মিত কর্মস্থলে না গিয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ত থাকায় রোগীরা কাঙিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহাম্মদ কবীর কর্মস্থলে না থেকে প্রতি দিন ১৫ কিলোমিটার দূরে চান্দিনায় গিয়ে অবস্থান করে প্রাইভেট প্র্যাকিটিস করেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা.নিয়াতুজজামান বলেন, এটা সম্ভব নয়, হওয়ার কথাও নয়, আমার কাছ থেকে ছুটি না নিয়ে কর্মস্থলের বাইরে অবস্থান করার বিধান নেই। এছাড়াও সকাল সাড়ে ৮টা থেকে আড়াই পর্যন্ত ডাক্তারদের হাসপাতালে বহির্বিভাগে চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আহাম্মেদ কবীর বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে থাকার পরিবেশ নেই, তাই চান্দিনায় থাকি। এটার একটি বিধান তো আছে।

আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনিকা হাসপাতালের কোয়ার্টারে না থাকার বিষয়ে তিনি একই যুক্তি দেখিয়ে বলেন, পরিবেশ ভালো নেই, তাই আরএমও কোয়ার্টারে থাকেন না।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমিটির উপদেষ্টা ও উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি একাধিকবার হাসপাতালে গিয়ে সময় মতো কাউকে কর্মস্থলে পাইনি। পরে তাদের (ডাক্তার) সঙ্গে বৈঠককালে তাদের বক্তব্য ছিল এভাবেই নাকি সারা দেশের হাসপাতাল চলে, তারাও চালাচ্ছে, কিন্তু ডাক্তারদের এমন মানসিকতা পরিবর্তন জরুরি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমিটির সভাপতি ও ইউএনও মো. রাকিব হাসান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, এখনই খোঁজ-খবর নেব।

সূত্রঃ ডেইলি বাংলাদেশ