ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লা নগরীর ৩৩৫টি অপরিকল্পিত ভবনের তালিকা যাচ্ছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে কুসিক কর্তৃপক্ষ ও অবৈধ ভবন মালিকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলছে লুকোচুরি খেলা।

গত ৪ এপ্রিল নকশাবহির্ভূত নয়টি ভবনের কাজ বন্ধ করে দেয় কুসিক। পরবর্তীতে ওই নয়টিসহ ১৯টি ভবনে লাল নোটিস ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। নোটিসে লেখা হয়-‘ভবনটি নকশাবহির্ভূত। এটি থেকে সাবধান থাকার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।’ নোটিস লাগানোর পর কাজ বন্ধ করতে বলা হয়। তবে নোটিস লাগানোর এক সপ্তাহের মধ্যে নোটিসের ওপর পর্দা দিয়ে ঢেকে দেয় ভবন কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে পর্দার ভিতরে থাকা নোটিসও সরিয়ে ফেলা হয়। এখন পুরোদমে সেগুলোতে কাজ চলছে।

>>আরো পড়ুনঃ  বরুড়ার সাবেক এমপি আবু তাহেরের আজ ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী

এ নিয়ে নাগরিকদের মন্তব্য-কুসিক লোক দেখানো নোটিস লাগিয়েছে, কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে না। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁও ফায়ার সার্ভিস অফিসের সামনে স্বর্ণ কুটির আনন্দ কানন নির্মাণাধীন ভবনের নোটিস ও কুসিক কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে গোল্ড সিলভার হোমসের নির্মাণাধীন একটি ভবনের নোটিস সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সেগুলোতে পুরোদমে কাজ চলছে। সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, সিটি করপোরেশনের কাজগুলো দায়সারা গোছের। তারা নিজেরাই ড্রেন ও সড়ক দখল করে মার্কেট নির্মাণ করেছে। বিশেষ করে টাউন হলের লাগোয়া নিউমার্কেট এলাকার মার্কেটটি ও সিংহ প্রেসের বিপরীতের মার্কেটটি। এদিকে ময়নামতি গোল্ডেন টাওয়ার, এসবি প্লাজাসহ বিভিন্ন মার্কেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে এক সময় খুব তোড়জোড় করা হয়। কিন্তু আসলে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা মাঠে তদারকি করলে এসব অবৈধ ভবন নির্মাণ হতো না।

>>আরো পড়ুনঃ  ৩ লাখ টাকায় বাঁচতে পারে বিরল রোগে আক্রান্ত লাকসামের আহসান

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী ও নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আবদুস সালাম গতকাল বলেন, আমরা অপরিকল্পিত ৩৩৫টি ভবনের তালিকা আজ (গতকাল) মঙ্গলবার কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিস অফিসে পাঠিয়েছি। তারা জেলা প্রশাসনে পাঠাবে। জেলা প্রশাসন তা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, আমরা কোনো নকশাবহির্ভূত ভবনকে আর ছাড় দিব না। এরকম ৩৩৫টি ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর তালিকা চলতি সপ্তাহেই কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নগরীর ৯০ ভাগ ভবন অপরিকল্পিত। অনেকে আমাদের থেকে নকশা নিয়েছেন সামনে ১০ ফুট সড়ক থাকবে। পরে দেখা গেল পাঁচ ফুটও সড়ক রাখেনি। আমাদের নিজস্ব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নেই, তাই যখন-তখন ব্যবস্থা নিতে পারছি না। ম্যাজিস্ট্রেটের বিষয়েও আবেদন জানাব।

>>আরো পড়ুনঃ  তিতাসে ২ আসামীর ঘরের সব মালামাল ক্রোক করেছে পুলিশ

সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন