ফাইল ফটো

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) অভ্যন্তরে পার্কিং মাঠে এক ছাত্রীকে খালি বাসে উঠিয়ে হয়রানির চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী ছাত্রী অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী। এসময় ওই বহিরাগত বখাটে তার মাথায়ও আঘাত করে। বৃহস্পতিবার সকালে এই ঘটনা ঘটে।

ওই ছাত্রীর বিভাগের শিক্ষার্থী আবির বলেন, ‘ভুক্তভোগী আমার বিভাগের জুনিয়র। তাকে দুপুরে ফ্যাকাল্টির নিচে কান্নাকাটি করতে দেখে জানতে চাই- কী হয়েছে। সে জানায়, সকাল ৮টার বাসে (১০ নম্বর) শহর থেকে ক্যাম্পাসে আসে সে। কিন্তু বাস থেকে নেমে সে বুঝতে পারে তার মোবাইল ফোনটি সঙ্গে নেই। তাই সে ফোনটি খুঁজতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস পার্কিংয়ের মাঠে যায়। সব শিক্ষার্থী নেমে যাওয়ায় বাস তখন খালি ছিল। বাসে উঠার সময় আচমকা এক ছেলে অন্য দিক থেকে এসে তার হাত ধরে বাসে উঠানোর জন্য টানা হেঁচড়া শুরু করে। এক পর্যায়ে তার মাথায়ও আঘাত করে ওই বখাটে। মাঠের পাশের রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী কয়েকজন ছাত্র ঘটনাটি দেখে ফেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর দিকের অরক্ষিত পাহাড়ের দিক দিয়ে দৌঁড়ে পালিয়ে যায় ওই ছেলে। ঘটনার আকস্মিকতা ও মাথায় আঘাতে অজ্ঞান হয়ে যায় ভুক্তভোগী ছাত্রী।’

ভুক্তভোগী ছাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘হামলাকারীকে দেখে আমার টোকাইয়ের মতো মনে হয়েছে। সে আমাকে আঘাত করার পর আমি অজ্ঞান হয়ে বাসেই ছিলাম। জ্ঞান ফিরলে দেখি, আমি শহরে। বাসটি আবার ১০টার শিডিউল এর জন্য শহরে চলে এসেছে। আমি তখন কী করব বুঝতে না পেরে আবার ক্যাম্পাসে আসি।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের প্রান্তে খেলার মাঠের পাশে নতুন বাস মাঠ। যার তিন দিকই অরক্ষিত। সেদিকে ক্লাসের সময়ে বাসে উঠানামার সময় ছাড়া শিক্ষার্থীদের চলাচল কম থাকে। আর তিন দিক অরক্ষিত হওয়ায় সেদিক দিয়ে অবাধে চলাচল করতে পারে বহিরাগতরা।

ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনার ব্যাপারে শুনে আমি মেডিকেল সেন্টারে গিয়ে তাকে দেখেছি। সে বলছে, ঘটনার পর সে তার বন্ধুবান্ধবদের জানিয়েছে। তার স্বামীকেও জানিয়েছে। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের ঘটনা, তাই এ ব্যাপারে উপাচার্য স্যারের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেব। ক্যাম্পাসের ওদিকটা অরক্ষিত হওয়ায় বহিরাগতদের রুখতে নিরাপত্তাকর্মী দিতে বলব।’

সূত্রঃ ঢাকাটাইমস