কুমিল্লা মহানগরীর ফুটপাথ দখল করেই চলছে ব্যবসা বানিজ্য

কুমিল্লা মহানগরীর ফুটপাথ দখল করেই চলছে ব্যবসা বানিজ্য।। পথচারিরা ফুটপাথ ছেড়ে সড়ক দিয়ে হাঁটছে। ঘটছে সড়ক দূর্ঘটনা। পথচারীর নিরাপদে পথ চলা পথচারীর নাগরিক অধিকার। হোক না সড়ক, মহাসড়ক বা আবাসিক এলাকার সড়কপথ। সকল সড়কই যাতে নগরবাসী নিরাপদে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে সে জন্য সরকার থেকে নাগরিকরা যেমন সুযোগ সুবিধা আশা করে পথচারী নাগরিকদেরও রয়েছে দায় দায়িত্ব, সচেতনতা। পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য নাগরিক সুবিধা হিসেবে রয়েছে- ফুটপাথ, ফুট ওভার ব্রীজ, আন্ডারপাশ, জেব্রা ক্রসিং ইত্যাদি। তবুও নগরবাসী এগুলো ব্যবহার করেনা বা ব্যবহারে অনিহা। এর পেছনেও অনেক কারণ থাকতে পারে বা আছে। আইন ভাঙ্গার প্রবনতা তো রয়েছেই। আর যদি এ সব সুযোগ সুবিধা ব্যবহারে নির্বিঘ্ন নিরাপদ, পথচারী বান্ধব না হয়, পথচারীরা এগুলো ব্যবহার করবে কেন? যখন দেখা যায় ফুটপাথটি হকার বা দোকানীদের দখলে, তখন তো পথচারী বাধ্য হয়ে ব্যস্ততম সড়ক পথেই হাঁটবে!। ফুটপাথ ধরে হাঁটার সুযোগ না পেয়ে স্কুল কলেজের শিশু কিশোররা যখন ফুটপাথ ছেড়ে ব্যস্ততম সড়কের মাঝপথে হাঁটে, সেটা হয়ে যায় বিপদ জনক, অনিরাপদ ।

কুমিল্লা মহানগরির দু একটা সড়ক, ফুটপাথের উদাহরণ দিলেই বোধ হয় বিষয়টা আরো বেশী খোলাশা হবে। যেমন রাজগঞ্জ মোগলটুলীর দু পার্শ্বের ফুটপাথের কথাই ধরুণ। এই ফুটপাথ ধরে কুমিল্লা হাই স্কুলের সহস্রাধিক ছাত্র ছাত্রী সকাল বিকাল চলাচল করে থাকে। এ সড়কের দু পার্শ্বেই রয়েছে শতাধিক দোকানপাট। বিশেষ করে সেনেটারী ও টাইলসের সামগ্রীর অসংখ্য দোকান, আর এই দোকান গুলোর পণ্য সামগ্রী যেমন পানির ট্যাংকী, ড্রাম,চুলার গ্যাস সিলিন্ডার এবং অন্যান্য সামগ্রী ফুটপাথ জুড়ে রেখে প্রদর্শন করা হয়। তখন বাধ্য হয়ে পথাচারী ও ছাত্র-ছাত্রীরা দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে ফুটপাথ ছেড়ে ব্যস্ততম রাস্তা ধরেই হাঁটে। রাজগঞ্জ, চকবাজার সড়কের ফুটপাথ তো ছাতা মেরামতকারী আর কাপড় বিক্রেতাদের দখলেই থাকে সারা বছর। দু পার্শ্বের দোকানের পসরার পাশকাটিয়ে পথ চলা নির্বিঘ্ন নয় বিধায় বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামতে হয় মানুষকে। রাজগঞ্জ, কান্দিরপাড় সড়কে অন্ত:সত্বা মহিলা রিক্সা বা অটোরিক্সা যাতায়াত না করাই নিরাপদ। পায়ে হেঁটে গেলে তো ফলওয়ালা আর স্তুুপাকার নির্মাণ সামগ্রী না ডিঙ্গিয়ে যাওয়ার উপায় কি? বরং রাস্তায় হাঁটাই স্বস্থি, যদিও পদে পদে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা। শাসনগাছার ওভার ব্রীজের নীচের সড়কের বেহাল দশা বহু দিনের, সরু ফুটপাথে হাঁটতে গিয়ে দু’জনে ক্রস করা নিরাপদ নয়। ফুটপাথ থেকে নীচে পড়েযাবার সম্ভাবনা বেশী। তাই সড়কের কিনারা ধরে হাঁটাই অনেকটা নিরাপদ।

সবশেষে বলা যায় অনেক ক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতা কোনই কাজে আসবেনা যদি না স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা ও সচেতনতা না থাকে।

লেখকঃ এডভোকেট আবদুল আজিজ মাসুদ, কলামিস্ট।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ