কুমিল্লা স্টেডিয়ামের আধুনিকায়ন ….

ডেস্ক রিপোর্টঃ প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়াম আধুনিকায়ন করায় স্থানীয় সংগঠকরা আশা করছেন কুমিল্লার ক্রীড়াঙ্গনে সুদিন ফিরবে। জেলা ক্রীড়া সংস্থা জানিয়েছে সহসাই উদ্বোধন করা হবে নান্দনিক রূপ নেওয়া ১৮ হাজার ধারণ ক্ষমতার স্টেডিয়ামটি।

আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এ স্টেডিয়ামের পাশেই করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন সুইমিং পুল। এটি বর্তমানে প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট ‘এ’ তালিকার ক্রিকেটের ভেন্যু। কুমিল্লা মহানগরীর ধর্মসাগরের (দীঘি) পূর্ব পাড়ে এবং কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ও জিলা স্কুলের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এ স্টেডিয়ামের সংস্কার ও আধুনিকায়নের ফলে এখানে পর্যাপ্ত অনুশীলন ও ম্যাচ খেলার সুযোগ মিলবে স্থানীয় ও আঞ্চলিক খেলোয়াড়দের।

এছাড়া জাতীয় পর্যায়ের যে কোনো খেলা আয়োজনও সম্ভব হবে। স্থানীয় সংগঠকরা আশা করছেন পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষার জন্য প্রথম দাবি উত্থাপনকারী ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নামে নামকরণ করা এ স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা থেকেই বেড়ে উঠবে নতুন নতুন খেলোয়াড়।

কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে ঘিরে ২৫টি ক্লাব রয়েছে। এর মধ্যে ৮-১০টি ছাড়া অন্যগুলো খেলায় মনোযোগী নয়। অস্তিত্ব রক্ষায় তারা অল্পকিছু খেলায় অংশ নেয়, যা কুমিল্লার ক্রীড়াঙ্গনকে পিছিয়ে দিচ্ছে। অথচ এক সময় কুমিল্লার ক্রীড়াঙ্গন ছিল মুখরিত।

কুমিল্লার ফুটবলার ছাড়া ঢাকার লিগ চালানো কঠিন হয়ে পড়তো। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডানে অধিকাংশই ছিলেন কুমিল্লার ফুটবলার। সেখানে এখন ঢাকার মাঠে কুমিল্লার খেলোয়াড় নেই বললেই চলে। এ জন্য কুমিল্লার ক্রীড়াবিদরা অপূর্ণাঙ্গ লিগ আর প্র্যাকটিস ভেন্যুর সংকটকে দায়ী করেছেন।

ক্রিকেট বোর্ডের জেলা কোচ সারোয়ার জাহান বলেন, ‘মাঠের জন্য গত তিন বছর ভালো খেলা হয়নি। এখানে প্র্যাকটিস মাঠের সংকট রয়েছে। স্টেডিয়ামে সবসময় প্র্যাকটিস করার সুযোগ থাকে না। বর্তমানে আমরা ঈদগাহে প্র্যাকটিস করাচ্ছি।’

হকির সাবেক খেলোয়াড় ও জেলা কোচ তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘হকির মাঠ নেই, তাই দীর্ঘদিন কুমিল্লায় হকির টুর্নামেন্ট হচ্ছে না। হকির ইনস্ট্রুমেন্টের দাম বেশি। অনেকে এত পুঁজি লাগিয়ে খেলতে চায় না। তাই খেলোয়াড়ের সংকট রয়েছে।’

ভলিবলের জেলা কোচ আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘এখানে ভলিবলের ভালো একটি সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আমাদের প্র্যাকটিস মাঠের সংকট কাটিয়ে আরও বেশি প্রশিক্ষণ আর টুর্নামেন্টের ব্যবস্থা করা গেলে নতুন মেধাবী খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে।’

ক্রীড়া সংগঠক বদরুল হুদা জেনু বলেন, ‘খেলার উন্নয়নে ক্লাবগুলো আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারে। স্টেডিয়াম এলাকায় ক্লাবগুলোর একটি বসার ঠিকানা করে দেওয়া যেতে পারে।’

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আহসান ফারুক রোমেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতা এবং অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) ও কুমিল্লা সদর আসনের এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের পদক্ষেপে স্টেডিয়ামটি আধুনিকায়ন করে নান্দনিক রূপ দেওয়া হয়েছে। সহসাই এর উদ্বোধন করা হবে। আমরা এখানে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট করতে পারবো।’

সূত্রঃ ইত্তেফাক

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ