মো.জাকির হোসেনঃ দেশের প্রধান জাতীয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ হচ্ছেনা যানজট। ফলে প্রতিদিনই মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের হাজার হাজার যাত্রীদেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে প্রচন্ড গরমে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে আটকে রোজাদারদের বেহাল অবস্থা। দাউদকান্দির মেঘনা-গোমতী টোলপ্লাজায় ওজন নিয়ন্ত্রনে ধীর গতি,সাপ্তাহিক ছুটিতে মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ পার্কিং, অবৈধ লেগুনা,মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড, বাজারসহ উল্টোপথে গন্তব্যে পৌঁছার চেষ্টায় প্রায় নিয়মিত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকেই ছিল মহাসড়কে যানজট। এসময় কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ থেকে মেঘনা ব্রীজের পশ্চিম পাড়ে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় বিভিন্ন সুত্র ও হাইওয়ে পুলিশ দাউদকান্দি থানা,ইলিয়টগঞ্জ ফাড়ি থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, দেশের প্রধান জাতীয় এই মহাসড়কে দেশের আমদানী-রপ্তানীর সিংহভাগ সম্পন্ন হয়। একইভাবে পর্যটন নগরী খ্যাত কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি,বান্দরবান , খাগড়াছড়ি, রামগড়, ফেনী,নোয়াখালী, লক্ষèীপুর,চাঁদপুর জেলার সাথে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের উত্তর-পশ্চিমা লের লোকজন যাতায়াত এই মহাসড়কজুড়েই সম্পন্ন হয়। ফলে প্রতিদিন কমপক্ষে ২৫ হাজারেরও বেশী যানবাহন চলাচল করে এই মহাসড়কে। মহাসড়কে যানবাহনের গতি স্বাভাবিক রাখতে তাই সরকারীভাবে মহাসড়কের উপর অবৈধ ষ্ট্যান্ড,অবৈধ পার্কিং , ইউটার্নে যাত্রাবিরতি , মহাসড়কের কোলঘেষে বাজার বসাসহ ত্রুটিপূর্ণ লক্করঝক্কর মার্কা কমগতির যানবাহন নিষিদ্ধেও পরও সেগুলো নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছেনা। ফলে কোনভাবেই মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের যানজট নিরসন সম্ভব হচ্ছেনা।

মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের শহীদনগর, কচুয়া রাস্তার মাথা, গৌরীপুর, রায়পুর, ইলিয়টগঞ্জ, মাধাইয়া , চান্দিনা , নিমসার ,ময়নামতি সেনানিবাস, আলেখারচর , কোটবাড়ি নন্দনপুর বিশ্বরোড, পদুয়ারবাজার , সুয়াগাজী , মিয়াবাজার,চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সদর এলাকাজুড়ে রয়েছে যানবাহন ষ্ট্যান্ড ,বাজার,অবৈধ পার্কিং । ফলে মহাসড়কের দ্রুতগতির যানবাহনগুলো উল্লেখিতস্থানে এসে গতি কমাতে বাধ্য হচ্ছে। এতে নিয়মিত যানজটের বাইওে অনেকস্থানে থেমে থেমেও যানজট সৃষ্ট হচ্ছে প্রতিদিন। ৬ মে মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে মহাসড়কের মেঘনা-গোমতী ও মেঘনা ব্রীজ এলাকায় যানজটে চরম দুর্ভোগ প্হোাচ্ছে যানবাহনের যাত্রীরা। একেতো গরম তারউপর রোজা । মহাসড়কের যানজটের কবলে পড়ে সেহরী-ইফতারীর সময় অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ। ঢাকা-চট্টগ্রাম,কুমিল্লা-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন পরিবহনের একাধিক চালক জানান, কোন কারণ ছাড়াই হাইওয়ে পুলিশ চান্দিনা ,ইলিয়টগঞ্জ,দাউদকান্দি এলাকায় খেয়ালখুশিমত দাড় করিয়ে অবৈধ মালামাল উদ্ধারের নামে তল্লাসী, মেঘনা-গোমতী টোলপ্লাজায় ওজন নিয়ন্ত্রণে ধীরগতি , ময়নামতি, আলেখারচর , কালাকচুয়াসহ বেশ কয়েকটিস্থানে উল্টোপথে গাড়ি চলাচল করায় যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে। ফলে সৃষ্ট হচ্ছে যানজট। এছাড়াও নিমসার মহাসড়কের কোলঘেষে বিশাল এলাকাজুড়ে কাচাঁবাজার চালু হওয়ায় শত শত মালবাহী ট্রাক,কাভার্ডভ্যান ,পিক-আপ,মিনিট্রাক প্রতিদিন মধ্যরাত থেকে পরদিন বেলা ৯/১০ টা পর্যন্ত রাস্তার উপর এসব যানবাহন রেখে মালামাল উঠানামা করায় সেখানেও নিয়মিত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এঅবস্থায় মঙ্গলবার গভীর রাত থেকেই মহাসড়কের ঢাকাগামী অংশের কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জের মেঘনা ঘাট এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার অংশজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ।

আব্দুল্লাহ আল বাকী নামের এক যুবক জানান, জরুরী প্রয়োজনে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে ইলিয়টগঞ্জ পৌঁছে জানলাম ঢাকা পর্যন্ত জ্যাম। এঅবস্থায় কুমিল্লা এসে ট্রেনে কওে ঢাকায় যাচ্ছি। মহাসড়কে তীব্র যানজটের কারণে কুমিল্লা রেলওয়ে ষ্টেশনে ছিল বৃহস্পতিবার উপচেপড়া ভীড়। এছাড়াও যানজট এড়িয়ে চট্টগ্রাম,রাঙ্গামাটি ,কক্সবাজার , বান্দরবান থেকে ঢাকাগামী বিলাসবহুল বিভিন্ন পরিবহনের বাসসহ প্রাইভেট কার মাইক্রোবাস ঢাকা পৌঁছতে কুমিল্ল্-াসিলেট মহাসড়ক পথে ব্রাহ্মনবাড়িয়া বাইপাস হয়ে আশুগঞ্জ,ভৈরব দিয়ে ঢাকায় যাচ্ছে। মহাসড়কের যানজট নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন থানা ,ফাঁড়ি পুলিশ সদস্যরাও রাতদিন কাজ করে যাচ্ছে। জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মহাসড়কের মেঘনা ব্রীজ এলাকায় দ্বীতিয় সেতুটির নির্মান কাজে ব্যবহৃত গাড়িগুলো মূলত যানজটের সৃষ্টি করছে। মহাসড়কের যানজটের বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লার দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, সাপ্তাহিক ছুটিতে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ থাকার কারনে কিছুটা যানজট রয়েছে।