তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির প্রায় অর্ধকোটি টাকার সরকারি পাইপসহ অন্য মালামাল অবৈধভাবে বাইরে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এসব পাইপ ও মালামাল অবৈধভাবে বাইরে বিক্রি করে দিয়েই চক্রটি ক্ষান্ত হয়নি, সেই মালামাল তিতাসের স্টোরে জমা করেছে কাগজে-কলমে।

পরে বিষয়টি তিতাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জেনে গেলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কর্তৃপক্ষ এখন বলছে, তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবশ্য ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন তিতাসের এক সিনিয়র রেকর্ডকিপার মো. ওয়ালী উল্লাহ পাটোয়ারী।
তিতাস সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও অঞ্চলে কর্মরত অফিস সহকারী মো. জহিরুল ইসলাম মূলত পাইপ বিক্রির মূল হোতা।

বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে তুলে আনা জমানো পাইপ জহিরুল ইসলাম কোনো একটি রি-রোলিং মিলে বিক্রি করে দেন। প্রায় অর্ধকোটি টাকার এই পাইপ আইনগতভাবে বৈধতা দেখানোর জন্য তিনি তিতাসের মূল ভারকেন্দ্র ডেমরার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ম্যানেজ করে কাগজে-কলমে বিক্রি হওয়া পাইপগুলো অফিসের স্টোরে জমা করেন। কিন্তু প্রকৃত অর্থে মালামালগুলো স্টোরে জমা হয়নি। বিষয়টি পরে তিতাসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানায় তদন্ত শুরু হলে মালামাল জমা হওয়ার অফিসিয়াল ডকুমেন্ট এমটিভিতে স্বাক্ষর করা কর্মকর্তারা তড়িঘড়ি করে তা বাতিল করার অনুরোধ করেন।

সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জানুয়ারি তিতাসের আঞ্চলিক অফিস সোনারগাঁও থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মিটার স্ক্রাপ এমএস পাইপ, এক ডজন ভাল্বপিটসহ অন্য মালামাল তিতাসের ডেমরা সংরক্ষণাগারে পাঠানো হয়। প্রকৃতপক্ষে এ মালামাল পাঠানো হয়নি। মালামাল গোডাউনে জমা না করেই ডেমরার দায়িত্বে থাকা সিনিয়র রেকর্ডকিপার মো. ওয়ালী উল্লাহ পাটোয়ারী মালগুলোর প্রয়োজনীয় রসিদ এমটিভি ফরমে স্বাক্ষর করেন।

যার ফরম নম্বর ১০৫ ও ১০৬। সূত্রে জানা যায়, ওয়ালী উল্লাহ পাটোয়ারী নিজে এমটিভিতে স্বাক্ষর করে সহকারী কর্মকর্তা গাজী সুলতান উদ্দিন আহমেদ, সহকারী ব্যবস্থাপক মো. আনিছুজ্জামান, সহকারী ব্যবস্থাপক মো. রুহুল আমীনের স্বাক্ষর নিয়ে ব্যবস্থাপক মো. সহিদ আলী প্রামাণিক এবং উপমহাব্যবস্থাপক মাসুদ উর রহমানের স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

পরর্বর্তী সময়ে কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, ম্যাটেরিয়াল ট্রান্সফার ভাউচার (এমটিভি) মালামাল ডেমরা ভা-ারে প্রবেশ করেনি। পরে দায়িত্ব থাকা কর্মকর্তারা নিরাপত্তা বিভাগের রেজিস্টার্ড এবং ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখেন যে মালামাল প্রবেশ করেনি। পরে ১লা ফেব্রুয়ারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডেকে নিয়ে মালামাল কোথায় গেল জানতে চাওয়া হলে মো. ওয়ালী উল্লাহ পাটোয়ারী মালামাল গ্রহণ না করেই এমটিভি প্রদানের রসিদের স্বাক্ষরের কথা স্বীকার করেন। পরে তিতাস কর্তৃপক্ষ এমটিভি দুটি বাতিল ঘোষণা করে।

এদিকে এ ঘটনায় তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী ইকবাল মো.নুরুল্লাহর নির্দেশে তিতাসের মালামাল গোডাইনে না ঢুকিয়ে কেন এমটিভি তৈরি করা হলো এবং মালামাল কোথায় গেল- পুরো ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত করতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে আছেন উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইউসুফ, ব্যবস্থাপক মো. মাহমুদ উর রহমান ভূঞা ও ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবু বকর।

অভিযুক্ত মো. জহিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, আমি কোনো মালামাল বিক্রি করিনি। ব্যবস্থাপক সহিদ আলী প্রামাণিক বলেন, এ রকম ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি কাজ করছে। কারা কারা এমন ঘটনায় জড়িত জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেকেই জড়িত থাকতে পারে; তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে। ডিজিএম মো. মাসুদ উর রহমান বলেন, মালামাল গোডাউনে না ঢুকিয়ে এমটিভি তৈরি করার সত্যতা আছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে অভিযুক্ত মো. জহিরুল ইসলামের রয়েছে রাজধানী ৬ টি সহ তার গ্রামের বাড়ী কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানাধীন আনন্দপুর গ্রামে ৪ বিঘা জমির উপর ৪ তলা একটি আলিশান বাড়ী আর এই বাড়ীতেই ঘরচ করা হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। আর সে নিজে ৪র্থ শ্রেনীর র্কমচারী হয়েও চলেন প্রাডো গাড়ীতে, ৪ স্ত্রী ও ৬ সন্তান নিয়েই তার এই রাজকীয় সংসার এবিষয়ে তার মন্তব্য জানতে চাইলে গ্রামের বাড়ীটি নাকি তার বাবা করছে তা তিনি এ বিষয়ে জানেন না তবে তার বাবা একজন সামান্য কৃষক আর তিনি কিভাবে ১০ কোটি টাকা খরচ করে বাড়ী করলেন সে প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে জান।

অন্যদিকে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির প্রায় অর্ধকোটি টাকার সরকারি পাইপসহ অন্য মালামাল অবৈধভাবে বাইরে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগের কারনে জহিরুলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সূত্রঃ অন্যদিগন্ত

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: