দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ দেবিদ্বারে ১৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮০টি বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক। বেহাল ভবনে পাঠদান ও  দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষকের পদ শূণ্য থাকায় সহকারি শিক্ষক দিয়েই চলে প্রধান শিক্ষকের কাজ। এছাড়া ৬৭টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। এর মধ্যে  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪১টি রেজিষ্টার প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ২৬টি। শিগগিরই ওই সব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ শূণ্যপদে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে পড়াশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, পরিচালনা কমিটির সদস্য ও অভিভাবকরা।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, ৬৭টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে ১৪টি ভবন নির্মাণের অনুমোদন হলেও বরাদ্দ না আসায় থমকে আছে ভবন নির্মাণের কাজ। বাকি ৫৩টি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় কবে অনুমোদন হবে তাও অনিশ্চয়তায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, পরিচালনা কমিটির সদস্য ও অভিভাবকেরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৮৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ৫০ হাজার ৮২৫ জন। ৩টি বিদ্যালয়ে ৪জন সহকারী শিক্ষক নেই। প্রধান শিক্ষক না থাকা ৮০ টি বিদ্যালয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়েছে, বড় শালঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নবীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, এগারো গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোপালনগর পূর্ব ও পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বরকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এলাহাবাদ পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেবারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোখসাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খলিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাপানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুয়ারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নারায়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধুমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,  রাজামেহার পূর্ব ও পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ,উনজুটি পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য রয়েছে, বাখরসার  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছোট আলমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উনঝুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দেবিদ্বার দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেবারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাকতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাষারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উল্লেখযোগ্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমাকে নানা কাজে মাসে কমপক্ষে ৭/৮ কর্মদিবস উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ে যেতে হয়। তখন ২/৩ জন শিক্ষক দিয়েই প্রাক-প্রাথমিকসহ ছয়টি শ্রেণির ক্লাস চালানো হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় বিঘ্ন ঘটে।

উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি কামরুজ্জামান বলেন, দেবিদ্বারে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের অনেক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এতে করে পড়াশোনায় চরম ক্ষতি হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীরা আসতে অনীহা প্রকাশ করে, বৃষ্টিতে ক্লাসরুম গুলোতে থাকে পানি ভর্তি। এতে অনেক অভিভাবকও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে।

এব্যাপারে উপেজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খগেন্দ্র চন্দ্র সরকার বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা প্রতি বছরই মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়, এ বছর ১৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের অনুমোদন এসেছে বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে আসবে। প্রধান শিক্ষকপদ শূণ্য প্রসঙ্গে বলেন, শিক্ষক সংকট একটি জাতীয় সমস্যা। যেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে, সেসব বিদ্যালয়ের একটি তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অচিরেই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আমি আশাবাদী।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: